ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জনের পথে হাঁটছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই ছেলে—এরিক ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র। মার্কিন ইতিহাসে এটিই প্রথম কোনো প্রেসিডেন্টের পরিবারের ঘটনা, যারা যুদ্ধের ডামাডোলকে সরাসরি ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহার করছেন।
ড্রোন ব্যবসায় বড় চুক্তি
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্র দেশগুলোতে ড্রোন ও ইন্টারসেপটরের ব্যাপক সংকট দেখা দেয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ‘পাওয়ারাস’ (Powerus) নামক একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লাভজনক চুক্তি করেছেন ট্রাম্পের দুই পুত্র। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে নতুন প্রজন্মের ড্রোন বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্বার্থের সংঘাত ও পাওয়ারাসের বক্তব্য
প্রেসিডেন্টের নিকটাত্মীয়দের এই ব্যবসায়িক অংশগ্রহণ নিয়ে ‘স্বার্থের সংঘাত’-এর অভিযোগ উঠলেও তা অস্বীকার করেছে পাওয়ারাস। প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রেট ভেলিকোভিচ জানান, চীনা ও রুশ ড্রোন নির্মাতাদের টেক্কা দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি। এই বিনিয়োগ রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং দেশের স্বার্থে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।”
ট্রাম্প পরিবারের নতুন ব্যবসায়িক লক্ষ্য
হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তাঁর ছেলেরা হোটেল বা গলফ ক্লাবের চিরাচরিত পারিবারিক ব্যবসার বাইরেও ক্রিপ্টোকারেন্সি, রকেটের যন্ত্রাংশ এবং বিরল খনিজ ব্যবসায় জড়িয়েছেন। তাদের সর্বশেষ লক্ষ্য হলো পেন্টাগনের বরাদ্দ করা ১১০ কোটি মার্কিন ডলারের তহবিল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে একটি সশস্ত্র ড্রোনের বিশাল কারখানা গড়ে তোলা।
কেন এই সুযোগ?
ট্রাম্প প্রশাসন চীন থেকে ড্রোন আমদানি নিষিদ্ধ করায় এই বিশাল বাজারের একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে এরিক ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। সমালোচনার জবাবে ট্রাম্পের ছেলেরা জানিয়েছেন, বাবার প্রথম মেয়াদে ব্যবসায়িক সুবিধা না নেওয়ায় তারা কোনো প্রশংসা পাননি, তাই এবার নিজেদের সুযোগ গ্রহণে কোনো বাধা দেখছেন না তারা।



