আগামী ২০ Harp-২৭ অর্থবছরের বাজেটে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের ওপর কর আরোপের এক বৈপ্লবিক ও কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন এই আইন কার্যকর হলে ভিখারি বা বাস্তুহীন ছাড়া প্রায় প্রতিটি নাগরিককেই উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের জন্য কর দিতে হবে। এমনকি সম্পদের পরিমাণ মাত্র এক টাকা হলেও করের আওতামুক্ত থাকার সুযোগ থাকবে না।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, কৃষক, শ্রমিক বা দিনমজুর—সবাইকেই এই করের খড়্গের নিচে আসতে হবে। মূলত প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
করের হার ও বিভাগ
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:
১. নিকটাত্মীয় (বাবা, মা, ভাই ও বোন): * ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: ১%
- পরবর্তী ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত: ২%
- পরবর্তী ৫ কোটি টাকা (মোট ১১ কোটি): ৩%
- এর বেশি যেকোনো পরিমাণের ওপর: ৫%
২. দূরসম্পর্কের আত্মীয়: * ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত: ৩%
- পরবর্তী ৫ কোটি টাকা (মোট ৬ কোটি): ৫%
- পরবর্তী ৫ কোটি টাকা (মোট ১১ কোটি): ৭%
- ১৬ কোটি টাকা বা তার বেশি হলে: ১০%
বাজারমূল্যে কর নির্ধারণ
এই কর হিসাব করা হবে সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো ব্যক্তি উত্তরাধিকারসূত্রে ১ কোটি টাকা বাজারমূল্যের সম্পদ পেলে তাকে ১ শতাংশ হারে ১ লক্ষ টাকা কর দিতে হবে। যদি একাধিক উত্তরাধিকারী থাকেন, তবে প্রত্যেকে তাদের প্রাপ্ত অংশের বাজারমূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করবেন।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
এনবিআরের করনীতি বিভাগের সাবেক সদস্য ড. সৈয়দ আমিনুল করিম জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে ১ টাকা পেলেও কর দিতে হবে—এমন নিয়ম সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে বাজারমূল্য নির্ধারণে উপ-কর কমিশনারের একক এখতিয়ার থাকলে সেখানে হয়রানি বা স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ থেকে যায়। তাই কৃষিজমিকে এর আওতামুক্ত রাখা এবং সুনির্দিষ্ট ‘থ্রেশহোল্ড’ বা সীমা নির্ধারণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে উত্তরাধিকার কর চালু থাকলেও অনেক দেশ এটি বাতিলও করেছে। এনবিআর আশা করছে, এই আইন বাস্তবায়িত হলে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে।



