৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খামেনি হত্যার নীলনকশা ফাঁস

২ মার্চ ২০২৬

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পেছনে থাকা পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাসের পরিকল্পনার পর তেহরানের মধ্যাঞ্চলের একটি কম্পাউন্ডে এই হামলা চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও সময়: সাধারণত এ ধরনের হাই-প্রোফাইল হামলা গভীর রাতে চালানো হলেও, খামেনির ক্ষেত্রে হামলাটি হয় সকালে। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তেহরানের একটি কম্পাউন্ডে খামেনির উপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠ সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবস্থান করবেন। এই তথ্য পাওয়ার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মার্কিন ও ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতা: বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া খামেনির দৈনন্দিন রুটিন ও নজরদারির তথ্য ইসরায়েলকে সরবরাহ করা হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “তিনি (খামেনি) আমাদের উন্নত নজরদারি এড়িয়ে যেতে পারেননি।”

হামলার বিবরণ:

  • সময়: স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিট।
  • পদ্ধতি: ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে খামেনির কম্পাউন্ডে প্রায় ৩০টি বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
  • লক্ষ্যবস্তু: তিনি ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে অবস্থান করছিলেন বলে ধারণা করা হয়, ফলে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে একাধিক ভারী গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়।
  • অন্যান্য হামলা: একই সময়ে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়সহ আরও কয়েকটি স্থাপনায় হামলা হয়, তবে প্রেসিডেন্ট নিরাপদ রয়েছেন।

নিহতদের তালিকা ও পরবর্তী পরিস্থিতি: ইরান নিশ্চিত করেছে যে এই হামলায় তিনজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন— আলি শামখানি, আজিজ নাসিরজাদেহ ও মুহাম্মদ পাকপৌর। ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো থেকে ট্রাম্প ও তার দল পুরো ঘটনা পর্যবেক্ষণ করছিলেন এবং কয়েক ঘণ্টা পর খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

তবে ইরান আগে থেকেই বিকল্প নেতৃত্ব নির্ধারণ করে রেখেছিল বলে জানা গেছে। এই হত্যাকাণ্ড চলমান সংঘাতের গতিপথ কতটা বদলে দেবে, তা এখন দেখার বিষয়।

সর্বশেষ