মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। আজ রোববার (১৫ মার্চ) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক জরুরি বার্তায় সৌদি আরবে অবস্থানরত সকল মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে।
সুরক্ষা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমান যুদ্ধাবস্থা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই সংকটময় মুহূর্তে নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রস্থান ও নিরাপত্তা নির্দেশনা
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যারা এই মুহূর্তে সৌদি আরব ত্যাগ করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য বাণিজ্যিক ফ্লাইট বা বিকল্প উপায়ে প্রস্থানের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত। তবে যারা বিশেষ কারণে এখনই দেশ ত্যাগ করতে পারছেন না, তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:
- নিজ নিজ বাসস্থান বা নিরাপদ ভবনের ভেতরে শক্তপোক্ত আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
- পর্যাপ্ত খাবার, পানি, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুদ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের ইমেইল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
আকাশসীমা ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা
বর্তমানে সৌদি আরবের আকাশসীমা উন্মুক্ত থাকলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় যেকোনো সময় বিমান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করা হতে পারে। এ কারণে নাগরিকদের যত দ্রুত সম্ভব বাণিজ্যিক ফ্লাইটের মাধ্যমে নিরাপদে দেশ ত্যাগের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।
রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মাম বিমানবন্দর এখন পর্যন্ত সচল থাকলেও সম্ভাব্য বিলম্ব বা আকস্মিক ফ্লাইট বাতিলের বিষয়ে যাত্রীদের সরাসরি এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, আমেরিকানদের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে বড় আর কোনো অগ্রাধিকার এই মুহূর্তে নেই।



