১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

অর্থ ও প্রভাবের জোরে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির দেশত্যাগ: বিচারহীনতার নতুন অধ্যায়

১৯ আগস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১৬ মে, ২০২৬

বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত এবং নৃশংস ‘কামাল হোসেন বনাম সাবেরা বানু চৌধুরী’ (Case – 37-2025/18/03) মামলার প্রধান আসামি সাবেরা বানু চৌধুরী বর্তমানে কানাডায় পলাতক রয়েছেন। গত বছর আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেও, প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তিনি দেশ ছাড়তে সক্ষম হন বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০২৪ সালের ১৭ই মার্চ। রাজধানীর গুলশানের বিলাসবহুল ওয়েস্টিন হোটেলে ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। মামলার বিবরণী অনুযায়ী, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান নাগরিক সাবেরা বানু চৌধুরী ২৭ বছর বয়সী যুবক কামাল হোসেনকে প্রলুব্ধ করে হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে তাকে যৌন নিপিড়ন ও পরবর্তীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেন। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই মামলার তদন্তে সরাসরি তদারকি করেন। তদন্তে প্রাপ্ত অকাট্য তথ্য-প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার পর আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৪ই আগস্ট, চার সদস্যের একটি বিশেষ বিচারক কমিটি এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এর ৯(৩) ধারার অধীনে অপরাধটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাবেরা বানু চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) প্রদানের আদেশ দেওয়া হয়। বাংলাদেশে কোনো নারীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম বলে আইন বিশেষজ্ঞরা জানান।

আদালতের রায়ের পর জনমনে স্বস্তি ফিরলেও, নেপথ্যে চলছিল ভিন্ন নাটক। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বিশাল অংকের ঘুষ প্রদানের মাধ্যমে সাবেরা বানু নিজের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আগেই গোপনে দেশ ত্যাগ করেন। শুধু তাই নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকেও তার অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে উক্ত ঘটনার সংবাদসমূহ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। বর্তমানে তিনি কানাডায় আলীশান জীবনযাপন করছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

বিদেশে পালিয়ে গিয়েও নিস্তার পাচ্ছেন না এই দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। জানা গেছে, কানাডাতেও তিনি সম্প্রতি বেশ কিছু নতুন আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়েছেন। বাংলাদেশের সচেতন নাগরিক সমাজ এবং ভুক্তভোগী কামাল হোসেনের পরিবার দাবি জানিয়েছেন, ইন্টারপোলের মাধ্যমে দ্রুত তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার।

একনজরে মামলার তথ্য:

মামলা নম্বর: 37-2025/18/03 (Gulshan)

ভিকটিম: কামাল হোসেন (২৭)

প্রধান আসামি: সাবেরা বানু চৌধুরী

তদন্তকারী: শেখ মো. সাজ্জাত আলী (তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার)

রায়ের তারিখ: ১৪ই আগস্ট, ২০২৫

সর্বশেষ