সম্প্রতি ভারতে জেন-জি বিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ‘যন্তর মন্তর’। ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর মধ্যে এটি এক অনন্য নাম। পর্যটকদের কাছে এটি বিজ্ঞান, স্থাপত্য ও ইতিহাসের অসাধারণ এক নিদর্শন হলেও নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এর আসল উদ্দেশ্য।
নামের পেছনের ইতিহাস ‘যন্তর মন্তর’ নামটি এসেছে মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে। ‘যন্তর’ শব্দটি এসেছে ‘যন্ত্র’ (Yantra) থেকে, যার অর্থ মেশিন বা সরঞ্জাম। অন্যদিকে ‘মন্তর’ এসেছে ‘মন্ত্রণা’ (Mantrana) শব্দ থেকে, যার অর্থ পরামর্শ বা গণনা করা। দুটি শব্দ একত্রে ‘যন্তর মন্তর’—যার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ‘গণনার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্র’। আকাশের নক্ষত্র ও গ্রহের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সময় নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতেই এই মানমন্দিরগুলো তৈরি করা হয়েছিল।
মহারাজা সাওয়াই জয় সিংয়ের উদ্যোগ আঠারো শতকের প্রথম ভাগে (১৭২৪ থেকে ১৭৩০ সালের মধ্যে) জয়পুরের শাসক মহারাজা সাওয়াই জয় সিং (দ্বিতীয়) উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মানমন্দির নির্মাণ করেন। তৎকালীন প্রচলিত ছোট ছোট যন্ত্রের চেয়ে আরও নিখুঁত পর্যবেক্ষণের জন্য তিনি বিশালাকৃতির ও স্থায়ী জ্যামিতিক নকশায় এগুলো তৈরি করিয়েছিলেন।
কোথায় কোথায় রয়েছে যন্তর মন্তর? ভারতে মোট ৫টি যন্তর মন্তর নির্মিত হলেও বর্তমানে ৪টি টিকে রয়েছে:
- দিল্লি: ১৭২৪ সালে প্রথম যন্তর মন্তরটি এখানে নির্মিত হয়।
- জয়পুর: এটি পাঁচটির মধ্যে সবচেয়ে বড়, জটিল এবং বৈচিত্র্যময়।
- উজ্জয়িনী ও বারাণসী: তুলনামূলক ছোট আকৃতির মানমন্দির।
(উল্লেখ্য, মথুরায় নির্মিত পঞ্চম যন্তর মন্তরটি ১৮৫৭ সালের আগে কোনো এক সময়ে দুর্গসহ ধ্বংস হয়ে যায়।)
স্থাপত্য ও বৈজ্ঞানিক বৈচিত্র্য জয় সিংয়ের এই প্রকল্পের মূল বিস্ময় হলো—কোনো যন্তর মন্তরই দেখতে হুবহু একই রকম নয়। শহরের ভৌগোলিক অবস্থানভেদে এগুলোর আকার, নির্মাণসামগ্রী ও স্থাপত্যে ভিন্নতা রয়েছে।
আধুনিক প্রযুক্তি আসার বহু আগে নির্মিত হলেও যন্তর মন্তর আঠারো শতকের ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান, প্রকৌশল দক্ষতা ও স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে আজও টিকে রয়েছে।



