যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের প্রভাবকে যখন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে, তখন পর্দার আড়াল থেকে কৌশলগতভাবে লাভবান হচ্ছে চীন। সিআইএ-র সাবেক বিশ্লেষক জন নিক্সন আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এই সংঘাতে বেইজিং ‘লং গেম’ বা দীর্ঘমেয়াদী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।
মার্কিন রণকৌশল পর্যবেক্ষণ:
নিক্সনের মতে, ইরান যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক যুদ্ধকৌশল ও সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছে চীন। ওয়াশিংটন যখন সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত, বেইজিং তখন দূর থেকে মার্কিন রণকৌশল বিশ্লেষণ করে নিজেদের সামরিক শক্তিকে আরও নিখুঁত করার রসদ সংগ্রহ করছে।
নিরাপদ শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান:
সাবেক এই বিশ্লেষক মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে চীন এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি ‘দায়িত্বশীল’ শক্তি হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্র যেখানে বারবার সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, চীন সেখানে কোনো যুদ্ধ ছাড়াই দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছে চীনের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে।
জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্বার্থ:
চীনের এই অঞ্চলের প্রতি আগ্রহের অন্যতম মূল কারণ হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। বিশ্ব ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এলেও চীন দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেলের বড় গ্রাহক হিসেবে থেকে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ‘একগুঁয়ে’ আচরণের সুযোগ নিয়ে চীন সেখানে নিজের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরাজয়ের আশঙ্কা:
নিক্সন সতর্ক করে বলেন, ওয়াশিংটন যদি অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তাদের কৌশলে পরিবর্তন না আনে, তবে বেইজিংয়ের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরাজয় ডেকে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।



