১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ব বাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দামে বড় লাফ

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি চুক্তির অনিশ্চয়তা এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম মতপার্থক্য তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) এক দিনেই তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নতুন উদ্বেগের কারণে বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বর্তমান বাজার দর

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের চিত্র ছিল নিম্নরূপ:

  • ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস: প্রতি ব্যারেলে ২.৮৫ ডলার বা ২.৭ শতাংশ বেড়ে ১০৭.৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
  • ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI): ৩.১৩ ডলার বা ৩.২ শতাংশ বেড়ে ১০১.২০ ডলারে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, গত সোমবারও উভয় বেঞ্চমার্কে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

দাম বাড়ার মূল কারণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পেছনে বেশ কিছু ভূ-রাজনৈতিক কারণ কাজ করছে: ১. শান্তি চুক্তিতে অনিশ্চয়তা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে বলে মন্তব্য করায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। ২. হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা: বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহকারী এই রুটে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ওপেকের তেল উৎপাদন গত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ৩. নতুন নিষেধাজ্ঞা: চীন ও ইরানের তেল লেনদেনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপও বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি শান্তি চুক্তির দিকে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়, তবে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮ থেকে ১২ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে। তবে উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দ্রুত ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সতর্ক করে জানিয়েছেন, সরবরাহ ব্যবস্থা এভাবে বিঘ্নিত হতে থাকলে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।

সর্বশেষ