২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দেড় বছর পর মুখ খুললেন রাষ্ট্রপতি জানালেন বঙ্গভবনের ‘বিভিষিকাময়’ বন্দিদশার গল্প

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দীর্ঘ দেড় বছর পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন পর্দার আড়ালের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। গত শুক্রবার বঙ্গভবনে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাকে অপসারণের চক্রান্ত, বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের বিভীষিকা এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর দূরত্বের বিষয়ে বিস্ফোরক সব তথ্য প্রদান করেছেন।

বঙ্গভবন ঘেরাও ও ‘ভাড়াটে’ আন্দোলন

২০২৪ সালের ২২ অক্টোবরের বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের ঘটনা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সেটি ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বিভীষিকাময় রাত। তিনি অভিযোগ করেন, “গণভবনের মতো বঙ্গভবনও লুট করতে চেয়েছিল তারা। সেখানে যারা আন্দোলন করছিল, তাদের অনেকেই ছিল ভাড়াটিয়া।” তিনি আরও জানান, তৎকালীন তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম তাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে আন্দোলনকারীরা তাদের লোক নয়।

অপসারণের চক্রান্ত ও বিএনপির ভূমিকা

রাষ্ট্রপতি দাবি করেন, তাকে অসাংবিধানিক উপায়ে সরিয়ে দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে বারবার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন:

  • একটি পক্ষ একজন সাবেক প্রধান বিচারপতিকে তাঁর জায়গায় বসানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ওই বিচারপতি রাজি হননি।
  • “বিএনপি এবং তাদের জোটসঙ্গীদের অনড় অবস্থানের কারণে আমাকে অপসারণের মুভটি ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার পক্ষে ছিল।”
  • তিন বাহিনীর প্রধানরা তাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়েছেন এবং যেকোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ড রুখে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয়হীনতা

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা একটিবারের জন্যও আমার কাছে আসেননি। এমনকি ১৪-১৫ বার বিদেশ সফরে গেলেও তিনি আমাকে লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছুই জানাননি, যা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক চুক্তির বিষয়েও তাকে কিছুই জানানো হয়নি।

‘প্রতিবন্ধী’ করে রাখার অভিযোগ

বঙ্গভবনে তাকে কার্যত জনবিচ্ছিন্ন ও ‘প্রতিবন্ধী’ করে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি উল্লেখ করেন:

  • তাঁর বিদেশ সফর দুইবার আটকে দেওয়া হয়েছে।
  • সারাবিশ্বের দূতাবাসগুলো থেকে তাঁর ছবি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
  • বঙ্গভবনের পুরো প্রেস উইংকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তিনি কোনো প্রেস রিলিজ বা জাতীয় দিবসে বাণী পর্যন্ত দিতে পারতেন না।
  • বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনগুলোতেও তাঁর যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, “আমার ওপর দিয়ে যে ঝড় গেছে, তা সহ্য করার মতো ক্ষমতা অন্য কারো ছিল কি না আমি জানি না। তবে আমি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় অবিচল ছিলাম।”

সর্বশেষ