অহেতুক যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও দ্বিতীয় মেয়াদে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক ‘যুদ্ধবাজ’ ইমেজে আবির্ভূত হয়েছেন। তবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর পর দুই সপ্তাহ পার হলেও নিজের প্রধান দুটি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। উল্টো হরমুজ প্রণালি সংকট এবং মিত্রদের অসহযোগিতায় এক বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন তিনি।
ব্যর্থ হয়েছে সরকার পতনের ছক
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের ধর্মীয় সরকার উৎখাত করা। যুদ্ধের প্রথম দিনই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করা হলেও তেহরানের শাসনব্যবস্থায় কোনো ধস নামেনি। বরং দ্রুততার সাথে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে ইরান তাদের সংহতির পরিচয় দিয়েছে। এমনকি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিরোধীরাও এখন বহিঃশত্রুর আক্রমণ ঠেকাতে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছে, যা ট্রাম্পের পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।
অক্ষত ইরানের পরমাণু কাঠামো ও সামরিক শক্তি
মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালালেও দেশটির পরমাণু সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারেনি। বিশেষ করে ইরানের মজুতকৃত ৪৫০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো ক্ষতি করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া ইরান ও হিজবুল্লাহর মুহুর্মুহু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রমাণ করছে যে, তাদের সামরিক শক্তি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন ইরানি ড্রোনের ঝাঁক মোকাবিলা করতে গিয়ে ক্লান্ত ও সরঞ্জাম সংকটে ভুগছে।
হরমুজ প্রণালি ও মিত্রদের পিঠটান
যুদ্ধের সাফল্য যখন অনিশ্চিত, তখন নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর কাছে সামরিক সমর্থন চাইলেও গ্রিনল্যান্ড-কাণ্ডের তিক্ত অভিজ্ঞতায় ইউরোপীয় দেশগুলো এবার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আড়াই হাজার মেরিন সেনা পাঠালেও তারা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে খোদ মার্কিন বিশ্লেষকরাই সন্দিহান।
ঘরে-বাইরে সমালোচনার মুখে অস্থির প্রশাসন
সাফল্য না আসায় ট্রাম্প প্রশাসন এখন সংবাদমাধ্যমের ওপর চড়াও হচ্ছে। যুদ্ধের নেতিবাচক খবর প্রচার করলে সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট তৈরি হওয়ায় বাণিজ্য অংশীদারদের রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয়ের ‘অনুমতি’ দিতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প, যাকে তার বড় ধরনের কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।



