১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ঈদকে সামনে রেখে রাজধানীর মতিঝিলে ফুটপাতে নতুন নোটের জমজমাট ব্যবসা চলছে

১৭ মার্চ ২০২৬

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশজুড়ে নতুন নোটের চাহিদা তুঙ্গে থাকলেও ব্যাংকগুলোতে মিলছে না কাঙ্ক্ষিত নোট। তবে রাজধানী মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনেই গড়ে উঠেছে নতুন নোটের রমরমা ব্যবসা। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে কচকচে নোটের বান্ডিল।

ব্যাংকে হাহাকার, ফুটপাতে উৎসব

বাংলাদেশ ব্যাংক এবার ঈদ উপলক্ষে বাজারে নতুন নোট ছাড়ার প্রচলিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে পারছে না। সোনালী ও অগ্রণীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরবরাহ না থাকায় তারা গ্রাহকদের নতুন নোট দিতে পারছেন না। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে খোলাবাজারের দিকে ঝুঁকছেন।

যে দরে বিক্রি হচ্ছে নতুন নোট

খোলাবাজারে ছোট নোটের চাহিদা বেশি থাকায় সেগুলোর দামও আকাশচুম্বী। মতিঝিল ও গুলিস্তান এলাকায় প্রতি বান্ডিল (১০০টি নোট) নতুন নোটের বর্তমান বাজারদর:

  • ৫ টাকার নোট: ১ বান্ডিল পেতে গুনতে হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা।
  • ১০ টাকার নোট: ১ বান্ডিল বিক্রি হচ্ছে ১,৩৫০ থেকে ১,৪০০ টাকায়।
  • ২০ টাকার নোট: ১ বান্ডিল পাওয়া যাচ্ছে ২,৪০০ থেকে ২,৫০০ টাকায়।
  • ৫০ টাকার নোট: ৫,৫০০ টাকার বিনিময়ে মিলছে এক বান্ডিল নোট।
  • ১০০ টাকার নোট: ১০,৬০০ থেকে ১০,৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক বান্ডিল।
  • বড় নোট (২০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা): প্রতি বান্ডিলে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

আইন ও বাস্তবতা

বাংলাদেশের মুদ্রা আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টাকা কেনাবেচা দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এ ধরনের অবৈধ লেনদেনের জন্য অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই এক শ্রেণির অসাধু চক্র ‘স্যারদের’ কাছ থেকে কমিশন বা বাড়তি দামে নোট সংগ্রহ করে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

শিশুদের ঈদ আনন্দ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই পকেট থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে এই নতুন নোট সংগ্রহ করছেন। অনেক ক্রেতার আক্ষেপ, “টাকার গায়ে যেন আগুন লেগেছে, তবুও খুশির টানে কিনতে হচ্ছে।”

সর্বশেষ