মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বর্তমান সময়টা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ, খোদ যুক্তরাষ্ট্রে নজিরবিহীন বিক্ষোভ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে এক ভয়াবহ বহুমুখী সংকটের মুখে পড়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘ঘুম হারাম’ করে তুলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বিস্তার ও কৌশলগত চাপ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সংঘাত এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলসহ মার্কিন মিত্র দেশগুলো ক্রমাগত আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ নিয়ে উত্তেজনা চরমে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহকারী এই জলপথ ইরান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বাধা না সরালে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে, যা সরাসরি একটি মহাযুদ্ধের ঝুঁকি তৈরি করছে।
জ্বালানি সংকট ও মার্কিন অর্থনীতিতে ধস যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম মাত্র এক মাসে প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ বেড়ে গেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১১৬ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে; পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিতে পারে।
অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা: ‘নো কিংস’ বিক্ষোভ হোয়াইট হাউসের মাথাব্যথার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ ‘নো কিংস’ আন্দোলন। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি এবং লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো বড় শহরগুলোতে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে ইরান যুদ্ধ এবং কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগ দাবি করছেন। হোয়াইট হাউস একে গুরুত্বহীন দাবি করলেও জনমতের এই তীব্র বিরোধী অবস্থান ট্রাম্পের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও মিত্রদের ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে ওয়াশিংটন। সৌদি আরব ও কাতারের মতো দেশগুলো এখন নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধানের পথ সুগম হয়নি।
সামরিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক—এই তিন ফ্রন্টে একযোগে চাপের মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এখন সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রেখে যুদ্ধের দাবানল থেকে নিজেদের রক্ষা করা।



