২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হোয়াইট হাউসের বাইরে গুলি চালানো ব্যক্তি নিজেকে ‘যিশুখ্রিস্ট’ দাবি করতেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির বাসভবন ও কার্যালয় ‘হোয়াইট হাউস’-এর বাইরে এক ভয়াবহ গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের একটি সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে গুলি চালায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক। তবে সিক্রেট সার্ভিসের তাৎক্ষণিক ও জোরালো পাল্টা গুলিতে ওই বন্দুকধারী নিহত হয়েছেন। নিহত যুবকের নাম নাস্যায়ার বেস্ট, যিনি নিজেকে ‘যিশুখ্রিস্ট’ বলে দাবি করতেন। এই ঘটনায় একজন পথচারীও গুরুতর আহত হয়েছেন।

যেভাবে ঘটল সেই রুদ্ধশ্বাস ঘটনা

দ্য নিউইয়র্ক পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সময় শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে ১৭ নম্বর নর্থওয়েস্ট স্ট্রিটে অদ্ভুতভাবে পায়চারি করতে দেখা যায় বেস্টকে। এরপরই সে হঠাৎ একটি চেকপয়েন্ট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। মাত্র কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পরপরই ফেডারেল কর্মকর্তাদের (সিক্রেট সার্ভিস) নিখুঁত নিশানায় ঘটনাস্থলেই খতম হয় সে।

হামলাকারী নাস্যায়ার বেস্ট মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং আগে থেকেই সিক্রেট সার্ভিসের নজরদারিতে ছিলেন। এর আগে গত জুনে তাকে মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল এবং জুলাইয়ে বেআইনি অনুপ্রবেশের দায়ে গ্রেপ্তারও করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, সে সময় সে নিজেকে ‘যিশুখ্রিস্ট’ দাবি করে নিজে থেকেই গ্রেপ্তার হতে চেয়েছিল।

লাইভ সম্প্রচারেই ছড়াল আতঙ্ক, সাংবাদিকদের হুড়োহুড়ি

গোলাগুলির আকস্মিক শব্দে হোয়াইট হাউসে কর্মরত সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এবিসি নিউজের সিনিয়র হোয়াইট হাউস করেসপনডেন্ট সেলিনা ওয়াং জানান, “আমি যখন নর্থ লন থেকে ফোনে ভিডিও রেকর্ড করছিলাম, ঠিক তখনই ডজনখানেক গুলির শব্দ শুনতে পাই। আমাদের জীবন বাঁচাতে দ্রুত প্রেস ব্রিফিং রুমে চলে যেতে বলা হয়।” ঘটনার পরপরই সিক্রেট সার্ভিস পুরো হোয়াইট হাউস অবরুদ্ধ (লকডাউন) করে দেয়।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের বার্তা ও প্রতিক্রিয়া

গুলির এই ঘটনা যখন ঘটে, তার মাত্র দুই ঘণ্টা আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে বসে ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি নিয়ে কাজ করার কথা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। অক্ষত থাকার পর ট্রাম্প সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন:

“আজ সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসের কাছে এক বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের দুর্দান্ত সিক্রেট সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ। এই ব্যক্তির সহিংস ইতিহাস ছিল। হোয়াইট হাউস করসপনডেন্টস ডিনারে গোলাগুলির মাত্র এক মাস পরই আবার এই ঘটনা ঘটল। এটি প্রমাণ করে যে, ভবিষ্যতের সব প্রেসিডেন্টের জন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গা তৈরি করা কতটা জরুরি।”

রাজনৈতিক নেতাদের তীব্র নিন্দা

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট—উভয় দলের নেতারাই রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। হাউস স্পিকার মাইক জনসন এজেন্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি বেটি ম্যাককলাম বলেন, “আমাদের যেকোনো মতবিরোধ ব্যালট বাক্সে বা ভোটের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।”

উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের ওপর প্রথম হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যেখানে তার কানে গুলি লেগেছিল। এরপর সাম্প্রতিক সময়ে হোয়াইট হাউসকে কেন্দ্র করে এটি দ্বিতীয় দফা বড় ধরনের হামলার ঘটনা। বর্তমানে এফবিআই ও সিক্রেট সার্ভিস যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে।

সর্বশেষ