১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানে মার্কিন হামলার পর ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব তেলের বাজারে।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিন ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৪০ ডলার বা প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৫৬ ডলারে। যদিও এর আগের সেশনে ব্রেন্টের দাম ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৯১ দশমিক ২৫ ডলারে। তবে গত শুক্রবারের তুলনায় এই দাম এখনো প্রায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কম রয়েছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং মাইন পেতে রাখা কয়েকটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, তাদের সেনাদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই পাল্টা হামলা চালানো হয়েছে। এদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি বন্দর আব্বাস ও উপকূলীয় এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত উপসাগরীয় অঞ্চলে অ-ইরানি জাহাজ চলাচল সীমিত করে রেখেছে। এর ফলে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝেই ইরানের শীর্ষ আলোচক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার কাতারের রাজধানী দোহায় সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকের (MoU) বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে।

সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় ইরান আগামী ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি থেকে পেতে রাখা মাইনগুলো সরিয়ে নিতে পারে। সেটি হলে সব দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে এবং ইরান ট্রানজিট ফি আদায়ও বন্ধ করবে।

বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন এই সমঝোতা সফল হলে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পাকিস্তান, চীন ও ভারতের উদ্দেশ্যে কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসবাহী (LNG) জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এছাড়া প্রায় তিন মাস আটকে থাকার পর ইরাকি তেলবাহী একটি সুপারট্যাঙ্কারও অবশেষে চীনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে।

সর্বশেষ