১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বৈশ্বিক অর্থনীতির মঞ্চে নতুন অবস্থানে ভারত

১ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৫ সাল শেষ হওয়ার আগেই জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে উঠে এসেছে ভারত। দেশটির সরকারের বছরশেষ অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে জার্মানিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে নীতিনির্ধারকদের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পর বিশ্বে চতুর্থ অবস্থান নিশ্চিত করেছে।

তবে এই অবস্থান চূড়ান্তভাবে স্বীকৃতি পাবে ২০২৬ সালে প্রকাশিত বার্ষিক জিডিপির চূড়ান্ত হিসাবের ভিত্তিতে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের পূর্বাভাসে ভারতের অর্থনীতির আকার ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলার, যেখানে জাপানের জিডিপি অনুমান করা হয়েছে ৪ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের প্রকাশিত ‘২০২৫: ভারতের প্রবৃদ্ধির জন্য নির্ধারক এক বছর’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৪ দশমিক ১৮ ট্রিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে ভারত ইতোমধ্যে জাপানকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সম্ভাব্য ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি নিয়ে জার্মানিকে পেছনে ফেলে তৃতীয় স্থানে ওঠার পথে রয়েছে।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানির কারণে গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র নয়াদিল্লির ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে। এতে অর্থনৈতিক উদ্বেগ তৈরি হলেও ভারতের সরকার মনে করছে, বৈশ্বিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি আরও সম্প্রসারিত হবে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান প্রবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে ভারত বৈশ্বিক চাপের মধ্যেও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সক্ষম।

আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয় এবং সে সময় দেশটির জিডিপি যুক্তরাজ্যকে ছাড়িয়ে যায়।

জনসংখ্যার দিক থেকে ২০২৩ সালে ভারত চীনকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হলেও মাথাপিছু আয়ের ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ছিল ২ হাজার ৬৯৪ ডলার, যা জাপানের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ এবং জার্মানির তুলনায় প্রায় ২০ গুণ কম।

সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষের বয়স ১০ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। ফলে বিপুলসংখ্যক তরুণের জন্য মানসম্মত ও ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শুরুতে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া এবং শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রবৃদ্ধি বিষয়ে ভারতের সরকার জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন কর্মসংস্থান তৈরির সক্ষমতার ওপর, যা সম্প্রসারিত শ্রমশক্তিকে উৎপাদনশীলভাবে কাজে লাগিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করবে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। মুডিস জানিয়েছে, ২০২৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে, যা জি-২০ দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। আইএমএফ ২০২৫ সালের জন্য ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ২০২৬ সালের জন্য ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। ওইসিডি, এসঅ্যান্ডপি, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও ফিচসহ অন্যান্য সংস্থাও ভারতের প্রবৃদ্ধি নিয়ে আশাবাদী পূর্বাভাস দিয়েছে।

বিজেপি সরকারের মতে, ভারত বিশ্বের দ্রুততম প্রবৃদ্ধিশীল প্রধান অর্থনীতিগুলোর একটি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখার সক্ষমতা রাখে। স্বাধীনতার শতবর্ষে ২০৪৭ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কাঠামোগত সংস্কার ও সামাজিক অগ্রগতির ভিত্তি শক্ত করা হচ্ছে।

সর্বশেষ