২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্বকাপে নেই বাংলাদেশ : আইসিসির ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতির নগ্ন প্রকাশ

২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের ছিটকে পড়া শুধু একটি দলের টুর্নামেন্টে না খেলা নয়—এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থার গভীর অসাম্য ও ক্ষমতার রাজনীতির একটি বড় উদাহরণ। দক্ষিণ এশিয়ার আলোচনায় বিষয়টি কিছুটা জায়গা পেলেও বৈশ্বিক ক্রিকেট অঙ্গনে আশ্চর্যজনকভাবে এ নিয়ে নীরবতা বিরাজ করছে।

এই নীরবতা এবং বাংলাদেশের বাদ পড়ার পেছনের কারণ মূলত একই—বিশ্ব ক্রিকেটে ভারতের একক প্রভাব ও কর্তৃত্ব।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দায়িত্ব ছিল ক্রিকেটের সার্বিক স্বার্থ রক্ষা করা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছে, সংস্থাটির সিদ্ধান্তে নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সেই অভিযোগ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। অনেকের মতে, আইসিসির নীতিনির্ধারণে এখন কার্যত ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে ভারত পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে না, এমনকি পাকিস্তানে গিয়ে খেলতেও অস্বীকৃতি জানায়। পাকিস্তানি কিংবা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ক্রিকেটারদের ভারতের টুর্নামেন্টে খেলতে নানা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে হয়। এগুলো যে পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তা সত্ত্বেও আইসিসি এসব বিষয়ে কার্যত নিশ্চুপ।

কিন্তু একই ধরনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে না চাইলে, তাদের পুরো টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ দেওয়া হয়। এখানেই প্রশ্ন ওঠে—একই পরিস্থিতিতে এক দেশের জন্য ছাড় আর অন্য দেশের জন্য কঠোরতা কেন? ভারতের যুক্তি যদি গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে বাংলাদেশের উদ্বেগও সমান গুরুত্ব পাওয়ার কথা ছিল।

বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ বিশ্ব ক্রিকেটের আর্থিক ক্ষমতার কেন্দ্রে নেই এবং আইসিসির বোর্ডে তাদের প্রভাবও সীমিত। ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পাল্লা স্বাভাবিকভাবেই ভারতের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বিষয়টি। নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণে তাকে আইপিএল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। যদি সেই হুমকি একজন ক্রিকেটারের জন্য যথেষ্ট গুরুতর হয়ে থাকে, তাহলে পুরো বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে কীভাবে অমূলক বলা যায়—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

তবুও আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভারতে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। কিন্তু ভারতের প্রভাব এতটাই প্রবল যে সংস্থাটির এমন বক্তব্য অনেকের কাছেই বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ভারত নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী কোথায়, কবে খেলবে তা ঠিক করতে পারলেও অন্য দেশগুলো সেই স্বাধীনতা পায় না।

এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সামনে প্রশ্ন ছিল—তারা কি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে? লেখকের মতে, পাকিস্তানের টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া উচিত, কারণ তারা আগেই শর্ত মেনে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে সম্মত হয়েছে।

তবে একই সঙ্গে পাকিস্তানের উচিত আইসিসির ভেতরে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। বাংলাদেশের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, সেটিকে ভারতের প্রতি আইসিসির পক্ষপাতের স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা দরকার। একই পরিস্থিতিতে কেন ভারত বিশেষ সুবিধা পায় আর অন্য দেশ বঞ্চিত হয়—এই প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোরালোভাবে তোলা প্রয়োজন।

সর্বশেষ