জন্মদিনে কিলিয়ান এমবাপে যেন নিজেই উপহার দিলেন নিজেকে। বিশেষ দিনে মাঠে নেমে গোল করলেন, দলকে জয় এনে দিলেন এবং স্পর্শ করলেন নিজের আদর্শ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর একটি উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সেভিয়ার বিপক্ষে ২–০ গোলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন ফরাসি তারকা।
এই জয়ের ফলে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমাতে সক্ষম হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করে চলতি লিগ মৌসুমে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ১৮ করেন এমবাপে। পরে ম্যাচ শেষের চার মিনিট আগে আরেকটি গোল করে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
এই গোলের মধ্য দিয়ে এক পঞ্জিকা বর্ষে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তিতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পাশে জায়গা করে নেন এমবাপে। ২০১৩ সালে এক বছরে রিয়ালের হয়ে ৫৯ গোল করেছিলেন পর্তুগিজ তারকা। সেভিয়ার বিপক্ষে জালে বল পাঠিয়ে সেই সংখ্যায় পৌঁছান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
গোলের পর উদযাপনে রোনালদোর বিখ্যাত ‘সিইইউ’ স্টাইল অনুসরণ করেন এমবাপে। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ‘আজকের দিনটা আমার জন্য আলাদা। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল জন্মদিনে পেশাদার ম্যাচ খেলার, তাও আবার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। আমরা জিতেছি, আমি গোল করেছি—সবকিছু মিলিয়ে এটি দারুণ একটি মুহূর্ত।’
নিজের আইডলকে স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারাটা অবিশ্বাস্য। উদযাপনের সময় আমি তাকে উদ্দেশ করেই ইঙ্গিত দিয়েছি। সে সবসময় আমার প্রতি আন্তরিক ছিল এবং রিয়ালে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আমাকে সাহায্য করেছে।’
উদযাপন প্রসঙ্গে এমবাপে বলেন, ‘এটা ছিল তার জন্য। আমি সাধারণত নিজের মতো করেই উদযাপন করি। কিন্তু আজকেরটা তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চেয়েছিলাম। শৈশবে সে আমার আইডল ছিল, এখন সে আমার বন্ধু।’
২০২৪ সালের গ্রীষ্মে পিএসজি ছাড়ার পর রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেন এমবাপে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ক্লাবটির হয়ে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯-এ। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এই মৌসুমে কোনো ক্লাবের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তিনি রয়েছেন বায়ার্ন মিউনিখের হ্যারি কেনের সঙ্গে।
এমবাপের এই অর্জনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি এবং সামনে আরও ভালো করার জন্য উৎসাহ দিয়েছি।’



