ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আয়োজিত গণভোটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ২৯৯টি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে। ফলাফল ঘোষণার পর এখন জনমনে বড় প্রশ্ন—নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে এবং কে শপথ পড়াবেন?
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের নির্দেশনা
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে শপথ গ্রহণ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী:
- গেজেট প্রকাশের ৩ দিনের মধ্যে: জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপিত হওয়ার তারিখ থেকে পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি (সাধারণত স্পিকার) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
- বিকল্প ব্যবস্থা: যদি নির্ধারিত ব্যক্তি (স্পিকার) ওই ৩ দিনের মধ্যে শপথ পড়াতে ব্যর্থ হন বা না করেন, তবে পরবর্তী ৩ দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পাঠ পরিচালনা করবেন। এক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী সিইসি-ই নির্দিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে গণ্য হবেন।
বর্তমান পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ ও সমাধান
বর্তমানে স্পিকারের অনুপস্থিতি বা পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও সংবিধান ও আইনি বিশেষজ্ঞরা বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছেন। সম্প্রতি আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে, যদি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার শপথ পড়াতে না পারেন, তবে রাষ্ট্রপতি মনোনীত কোনো ব্যক্তি (যেমন প্রধান বিচারপতি) শপথ পাঠ পরিচালনা করতে পারবেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে। এরপর সংসদ সদস্যরা তাদের মধ্য থেকে একজনকে স্পিকার ও একজনকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচন করবেন।



