আসন্ন শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে কোনো ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে না। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। অর্থাৎ আগের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ এবং মেধা ও পছন্দক্রমের ভিত্তিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সরকার পরিবর্তনের পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর একাদশ শ্রেণির ভর্তিপদ্ধতি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত আগের নিয়ম বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের দুই-এক দিন আগেই এ বছরের ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরির পাশাপাশি অল্প সময়ে তা বাস্তবায়ন কঠিন হওয়ায় ফলের ভিত্তিতে ভর্তির নিয়মই বহাল থাকছে। তবে কোটা-সংক্রান্ত বিষয়ে পর্যবেক্ষণ থাকায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ভর্তি প্রক্রিয়া ও আবেদন পদ্ধতি: পূর্বের নিয়মেই নির্ধারিত ফি দিয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। শিক্ষার্থীর ফলাফল, কোটা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও পছন্দক্রম বিবেচনা করে একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির মনোনয়ন দেওয়া হবে। নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান ব্যতীত দেশের সব কলেজ ও মাদ্রাসায় এই পদ্ধতি প্রযোজ্য হবে।
পিছাচ্ছে ভর্তি কার্যক্রম: চলতি ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের তারিখ পিছিয়ে যাওয়ায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরুর সময়সূচিও পিছানো হচ্ছে। দ্রুতই নতুন কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে শিক্ষা বোর্ড।
এদিকে, তথ্য অনুযায়ী সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। বিপরীতে এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। ফলে এবারও একাদশ শ্রেণিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



