৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

‘সমঝোতার’ চাঁদা এবং আড়তের ৩৭ টাকার বেগুন ঢাকায় ১০০

৩ মার্চ ২০২৬

পথে পথে চাঁদাবাজি যেন সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। বগুড়ার মহাস্থান হাটে যে বেগুন কৃষক আড়ত পর্যায়ে ৩৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন, ঢাকার খুচরা বাজারে এসে তার দাম ঠেকছে ১০০ টাকায়। ৩শ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই হাটে সবজি বিক্রির পর কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা প্রতি মণের ‘স্লিপ’ বা চাঁদা। খাজনার নামে এই বাড়তি টাকা আদায় থেকে বাঁচতে অনেকে সরাসরি মাঠ থেকে ট্রাকে পণ্য তুললেও সেখানেও হানা দিচ্ছে চাঁদাবাজরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে পণ্য খালাসের খরচের চেয়ে চাঁদার পরিমাণ বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইজারাদার তাহেরুল ইসলামের নামে স্লিপ দিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠলেও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। একই চিত্র সিরাজগঞ্জেও; সেখানেও ট্রাক চালক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে স্লিপের মাধ্যমে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম অবশ্য জানিয়েছেন যে, চাঁদাবাজির বিষয়ে কোনো সমঝোতা নেই এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সড়ক ও জনপথের টোলের দোহাই দিয়ে সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী সবজির ট্রাকগুলো থেকে গাজীপুর পার হতেই ম্যানুয়ালি ২০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। হাটে, বাজারে এবং মহাসড়কে এই অঘোষিত চাঁদাবাজির প্রভাবে পাইকারি আড়তে আসার পর সবজির দাম দুই থেকে তিনগুণ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ ভোক্তারা চড়া মূল্যে সবজি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সর্বশেষ