বলিউড থেকে হলিউড— বিশ্বমঞ্চে আজ প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কিন্তু এই গ্ল্যামারাস জীবনের পেছনে লুকিয়ে আছে এক কিশোরীর সংগ্রামের গল্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, বিদেশের মাটিতে বর্ণবিদ্বেষের শিকার হয়ে একসময় বাথরুমে লুকিয়ে দুপুরের খাবার খেতে হতো তাকে।
বর্ণবিদ্বেষের তিক্ত অভিজ্ঞতা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে গিয়ে মাত্র ১৫-১৬ বছর বয়সেই চরম অবজ্ঞার মুখে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। সহপাঠীরা তার গায়ের রঙ নিয়ে কটাক্ষ করত এবং তাকে ‘ব্রাউনি’ বা ‘কারি’ বলে ডাকত। ‘দ্য টুডে শো’-তে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম যে সহপাঠীদের সামনে যেতে ভয় পেতাম।”
ক্যাফেটেরিয়া নয়, বাথরুমই ছিল ভরসা
প্রিয়াঙ্কা জানান, স্কুলের ক্যাফেটেরিয়ায় সবার সামনে বসে খাওয়ার সাহস পেতেন না তিনি। তিনি বলেন, “আমি জানতাম না কীভাবে খাবার অর্ডার করতে হয়। তাই ভেন্ডিং মেশিন থেকে চিপস কিনে বাথরুমে চলে যেতাম এবং সেখানেই দ্রুত দুপুরের খাবার সেরে নিতাম, যাতে কারও নজরে না পড়ি।”
সংরক্ষণশীল পরিবার ও আত্মপরিচয়
একজন ভারতীয় হিসেবে পশ্চিমা সংস্কৃতির ডেটিং বা নাইটলাইফের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতেও বেগ পেতে হয়েছিল তাকে। নিজেকে আমেরিকানদের ভিড়ে বড় বেশি ‘নন-আমেরিকান’ মনে হতো তার। তবে সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ তিনি বিশ্বজুড়ে আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
ফিরছেন ভারতীয় সিনেমায়
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও ভারতীয় পর্দায় দেখা যাবে এই ‘দেশি গার্ল’কে। এস এস রাজামৌলি পরিচালিত বিগ বাজেট সিনেমা ‘বারাণসী’-তে মহেশ বাবুর বিপরীতে ‘মন্দাকিনী’ চরিত্রে অভিনয় করবেন তিনি। সিনেমাটি ২০২৭ সালে মুক্তির কথা রয়েছে।
এছাড়াও ২০২৬ সালে মুক্তি পেতে পারে জ্যাক এফরনের সাথে তার কমেডি সিনেমা ‘জাজমেন্ট ডে’। পাশাপাশি অমৃতা শের-গিলের বায়োপিক ‘আমরি’ এবং জনপ্রিয় সিরিজ ‘হুইটল’ নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন এই আন্তর্জাতিক তারকা।



