বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাত একটি অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে এর তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। গত কয়েক দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বজ্রপাতে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ থেকে নিজেকে এবং পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে বিশেষজ্ঞ ও আবহাওয়া দপ্তরের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি।
১. ঘরে থাকা অবস্থায় করণীয়
বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত বাড়ির ভেতরে অবস্থান নিন। এসময় জানালার পাশে না থেকে ঘরের মাঝখানে থাকার চেষ্টা করুন।
- বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন: বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়া, কম্পিউটার বা ল্যান্ডফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
- পানির সংস্পর্শ ত্যাগ: পানির কল, শাওয়ার বা যেকোনো জলাধার থেকে দূরে থাকুন, কারণ পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী।
- দরজা-জানালা বন্ধ: বজ্রপাতের শব্দ পাওয়ার সাথে সাথে ঘরের দরজা ও জানালা ভালো করে বন্ধ রাখুন।
২. বাইরে থাকা অবস্থায় সুরক্ষা
যদি আপনি ঘরের বাইরে থাকেন, তবে কোনোভাবেই গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু স্থানে আগে আঘাত করে।
- ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন: বিদ্যুতের খুঁটি, টাওয়ার বা ধাতব বেড়া থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
- যানবাহনে অবস্থান: গাড়িতে থাকা অবস্থায় বজ্রপাত শুরু হলে জানালার কাঁচ বন্ধ করে গাড়ির ভেতরেই অবস্থান করুন।
- উন্মুক্ত স্থান ত্যাগ: ফাঁকা মাঠে থাকলে দ্রুত নিচু হয়ে বসে পড়ুন, তবে মাটিতে শুয়ে পড়বেন না।
৩. বিশেষ সতর্কতা
- জুতার ব্যবহার: সবসময় রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা স্যান্ডেল পরার চেষ্টা করুন। খালি পায়ে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
- ৩০ মিনিটের নিয়ম: বজ্রধ্বনি থেমে যাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তবেই ঘর থেকে বের হওয়া উচিত। কারণ ঝড় থেমে গেলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না।
- শিশুদের সচেতনতা: শিশুদের বজ্রপাতের ভয়াবহতা সম্পর্কে সহজ ভাষায় শিক্ষা দিন যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে।
বজ্রাঘাত কেবল তাৎক্ষণিক মৃত্যু ঘটায় না, বরং প্রাণে বেঁচে গেলেও হৃদরোগ, চোখের ছানি বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা তৈরি করতে পারে। তাই সচেতনতাই হতে পারে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।



