১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিশ্ববাজারে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে নাটকীয়ভাবে বেড়েছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তেহরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) লেনদেনের একপর্যায়ে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ২ ডলারের বেশি লাফিয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ২ মিনিট নাগাদ বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে ব্যারেল প্রতি ৯৩.১৮ ডলারে থিতু হয়, যা আগের চেয়ে ৮ সেন্ট বা ০.০৯% বেশি। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দাম ২৫ সেন্ট বা ০.০৮% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯০.২৮ ডলারে পৌঁছায়।

হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ:

ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তেলবাহী ট্যাংকার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ সব ধরনের বেসামরিক নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ থাকবে। কোনো জাহাজ এই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করলে সরাসরি গুলি চালানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এই অবরোধের খবরে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে।

ডাচ বহুজাতিক ব্যাংক আইএনজি (ING)-এর বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই চরম উত্তেজনা ইঙ্গিত দেয় যে দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি এখনো অনেক দূরে। ফলে পারস্য উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ আগামী দিনগুলোতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা এখনো এই রুটে সরাসরি কোনো জাহাজডুবির ঘটনা না দেখায় দামের এই বড় লাফ পুরোপুরি স্থায়ী হয়নি।

ওপেকের উৎপাদন সর্বনিম্ন স্তরে:

দুই দেশের এই সর্বাত্মক যুদ্ধাবস্থার কারণে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘ওপেক‘ (OPEC)-এর সামগ্রিক তেল উৎপাদন গত মে মাসে বিগত দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের কারণে একদিকে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ, অন্যদিকে হরমুজে ইরানি কড়াকড়ির কারণে পারস্য উপসাগরের অন্যান্য আরব দেশের সরবরাহও কমতে শুরু করেছে। এই ঘাটতি সামাল দিতে শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তাদের নিজস্ব কৌশলগত মজুত থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ৭৯ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে তারা ইরানি সামরিক নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর দ্বিতীয় তরঙ্গের বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের নেতারা যদি অবিলম্বে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর না করেন, তবে আরও বিধ্বংসী বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাওয়া হবে।

সর্বশেষ