৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ঢুকল মার্কিন রণতরী

২৭ জানুয়ারি ২০২৬

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ। সোমবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের দুই কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের দিকে একটি বড় নৌবহর পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি লেখেন, এই বহর হয়তো ব্যবহার করার প্রয়োজন নাও হতে পারে, তবে ইরানকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, যুদ্ধবিমান বহনকারী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের সঙ্গে বেশ কয়েকটি গাইডেড মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ার ইরানের উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই নৌবহর ইরানের আশপাশের জলসীমায় অবস্থান নেবে।

অন্য এক কর্মকর্তা জানান, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই এই প্রস্তুতি। সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করতে বহরের সঙ্গে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও বিস্ফোরক সরঞ্জাম।

চলতি জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে এই যুদ্ধজাহাজের বহর মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সে সময় ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছিল।

উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। গত বছরের জুনে এই ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতও হয়েছিল।

এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান চালাতে পারে।

শেষ পর্যন্ত সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিলেও যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠানোর সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ।

সর্বশেষ

৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬