ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত বর্তমানে চতুর্থ দিনে প্রবেশ করেছে। এই যুদ্ধ আসলে কতদিন স্থায়ী হবে এবং এর চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জোর আলোচনা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন তার সবই করবে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি এই অভিযানকে ‘মহাতাTable তাণ্ডব’ (Epic Fury) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের মতে, এই যুদ্ধ সম্ভবত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা প্রায় এক মাস চলতে পারে। সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত শুরুই করিনি। বড় ঢেউটি এখনো আসতে বাকি।” অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, এই সংঘাত শেষ হতে কিছুটা সময় লাগলেও এটি বছরের পর বছর ধরে চলবে না। তিনি একে একটি ‘চূড়ান্ত’ সংঘাত হিসেবে শেষ করতে চান।
মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধের একাধিক লক্ষ্যের কথা বলা হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা, দেশটির নৌবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করা এবং বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়ে ইরানিদের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়া। তবে সিআইএ-র সাবেক কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানে লাখ লাখ সশস্ত্র ও সংগঠিত বাহিনী থাকায় শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা বেশ কঠিন হবে।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। কাতার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করায় ইউরোপে গ্যাসের দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলারে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলার আশঙ্কায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে।



