৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভিন্ন বাস্তবতায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

৭ মার্চ ২০২৬

একাত্তরের যে দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বজ্রকণ্ঠের ঘোষণায় স্বাধীনতার বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের প্রতিটি প্রান্তে, ইতিহাসের সেই বাঁক বদলানো ৭ মার্চ এবার এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক আবহে। বিগত সাড়ে ১৫ বছরের আওয়ামী লীগ শাসনামলে দিনটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপিত হলেও, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টানা দ্বিতীয় বছরের মতো নেই কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি।

চব্বিশের ৫ আগস্ট গণ-আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর বর্তমানে সবচেয়ে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৭ মার্চসহ আটটি জাতীয় দিবস বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা বর্তমান বিএনপির নতুন সরকারের আমলেও বহাল রয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে গত বছরের মে মাস থেকেই আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দলটির অধিকাংশ নেতাকর্মী হয় পলাতক, না হয় কারাগারে। ফলে বর্তমানে দলটির কার্যক্রম কেবল ফেসবুক কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ৭ মার্চ ঘিরেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেস কোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) ২৩ বছরের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষণা করেছিলেন— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” মাত্র ১৯ মিনিটের সেই ভাষণেই তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর সেই আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়েই বাঙালি জাতি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। উল্লেখ্য যে, এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

সর্বশেষ