ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তার পুত্র মোজতবা খামেনি। গতকাল ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা প্রদান করে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এতদিন পর্দার আড়ালে থেকে দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
পর্দার আড়ালের ‘গেটকিপার’
মোজতবা খামেনি সাধারণত জনসম্মুখ থেকে নিজেকে আড়ালে রাখতেন। তাকে জনসভা, জুমার খুতবা বা রাজনৈতিক ভাষণে তেমন দেখা যেত না। তবে তিনি তার বাবার শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিতে পরিণত হন। ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ‘বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী’র (আইআরজিসি) সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি এতদিন তার বাবার ‘গেটকিপার’ হিসেবে প্রভাব বিস্তার করে গেছেন।
রাজনৈতিক অবস্থান ও কট্টরপন্থা
মোজতবা খামেনিকে একজন কট্টরপন্থী নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রচেষ্টায় সংস্কারপন্থীদের বিরোধিতা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ ২০১৯ সালে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও তিনি বাস্তবে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধিত্ব করতেন এবং কুদস ফোর্স ও বাসিজ বাহিনীর কমান্ডারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন।
ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত জীবন
১৯৬৯ সালে জন্মগ্রহণ করা মোজতবা যুবক বয়সে ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি শিয়া ধর্মতাত্ত্বিক শিক্ষার কেন্দ্র কোম মাদরাসায় পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে তার ধর্মীয় পদমর্যাদা ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’, যা ‘আয়াতুল্লাহ’র নিচের ধাপ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার গোলামআলি হাদ্দাদাদেলের মেয়েকে বিয়ে করেছিলেন, যিনি গত শনিবারের বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন।
চ্যালেঞ্জ ও বিতর্ক
ইরানের ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পর্ষদ ভোটের মাধ্যমে তাকে নির্বাচিত করলেও, তার এই নিয়োগ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের মতে, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র উৎখাত করা দেশে আবার পারিবারিক শাসন ব্যবস্থা ফিরে আসাটা প্রশ্নবিদ্ধ। এ ছাড়া অতীতে বিভিন্ন বিক্ষোভ দমনে তার ভূমিকার কারণে জনগণের একটি অংশের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে নতুন এই সর্বোচ্চ নেতার প্রতি তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন।



