পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরবিশিষ্ট বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ও সংলগ্ন এলাকাগুলোতে ৩২টি টিম মোতায়েনের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও চেকপোস্টের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তায় ৩২টি টিম ও বিশেষ নজরদারি
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব-১০-এর অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সদরঘাট, সায়েদাবাদ, শ্যামপুর, সূত্রাপুর ও কামরাঙ্গীরচরসহ জনবহুল এলাকাগুলোতে র্যাবের ৩২টি টিম নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া সঠিক তথ্য সংগ্রহ ও গোপন নজরদারির জন্য ৬টি সিভিল টিমও মাঠে থাকবে।
কন্ট্রোল রুম ও যাত্রী সহায়তা
যাত্রীদের তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে দুটি ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। যাতায়াতের সময় কোনো যাত্রী হয়রানির শিকার হলে বা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করা হলে সরাসরি এই কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। অভিযোগ পাওয়ামাত্রই দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছে র্যাব।
ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা ও বিশেষ টহল
ঈদে প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ার সম্ভাবনা থাকায় রাজধানীর অনেক বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যেতে পারে। এই সুযোগে চুরি, ছিনতাই বা ডাকাতি রোধে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাহিনীটি। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি ‘রোবাস্ট পেট্রোলিং’ ও ‘ফুট পেট্রোলিং’ পরিচালনা করা হবে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি করা হবে।
আভিযানিক সাফল্য
র্যাব আরও জানায়, ঈদ সামনে রেখে আভিযানিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। ঈদের দিন এবং পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে।


