২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে আরও রণতরী ও হাজারো মেরিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

২১ মার্চ ২০২৬

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হাজার হাজার অতিরিক্ত মেরিন সেনা ও শক্তিশালী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সামরিক শক্তি বৃদ্ধি ও ‘ইউএসএস বক্সার’ মোতায়েন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৫০০ মেরিন সেনার একটি চৌকস দল এবং উভচর হামলাকারী যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস বক্সার’ (USS Boxer) এই অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত রাখার প্রচেষ্টায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

মিত্রদের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাটোভুক্ত মিত্র দেশগুলো সেনা পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানোয় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিত্রদের এমন অবস্থানকে তিনি ‘কাপুরুষোচিত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই পথটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।

জ্বালানি সংকট ও তেলের বাজারে অস্থিরতা হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম বর্তমানে ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের কাছাকাছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে আটকে পড়া ১৪ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসতে পারে।

রণক্ষেত্রে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি যুদ্ধক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনী তেহরান ও মধ্য ইরানে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও তেল আবিব ও জেরুজালেমে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। রয়টার্সের তথ্যমতে, এই ভয়াবহ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরান ও লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ জার্মানি ও ফ্রান্স স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার আগে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মারজ এ বিষয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এদিকে, মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে স্থল যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে; ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশ আমেরিকান বিশ্বাস করেন ট্রাম্প বড় ধরনের স্থল যুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন।

সর্বশেষ