৩০শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সংসদের সামনে মানববন্ধনে ‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’

২৯ মার্চ ২০২৬

জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে বক্তারা গণভোটের ওপর জনগণ যে রায় দিয়েছে সেটা মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

‘গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরাম’ আয়োজিত ওই মানববন্ধনে তারা বলেন, আপনারা আজ গদিতে আছেন সেটাও জনগণের রায়, আশা করবো এই রায়টিও আপনারা মেনে নেবেন।

রোববার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টায় ‘গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে’ এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম মানববন্ধনে বলেন, কেন আপনারা আজকে গদিতে আছেন? কেন স্বৈরাচার চলে গেছে? কেন জনগণ সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ ডাকার সুযোগ পাচ্ছে? এটা মনে রাখার দরকার, সংবিধানের কথা বলেছেন, সংবিধানে অনেক কিছু আছে।

যেটা নেই সেটা হচ্ছে গণহত্যা, যেটা নেই সেটা হচ্ছে বিপ্লব, যেটা নেই সেটা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর পালিয়ে যাওয়া। সেগুলি কোনোটাই তার মধ্যে লেখা নেই। কিন্তু সেগুলিকে আমরা আলিঙ্গন করেছি। কারণ জনগণ যে ভিন্ন বাংলাদেশ চায় সেটা রক্ত দিয়ে তারা প্রমাণ করেছে।

‘আপনারা গদিতে আছেন, সেটাও কিন্তু জনগণের রায় এবং আপনারা যদি সেই রায়টা গ্রহণ করতে পারেন তাহলে অন্য রায়টা গ্রহণ করা কঠিন হয়ে যায় কেন সেটা আমরা বুঝি না। এটা নিশ্চয়ই সত্য যে, যা বলা হচ্ছে তার সব কিছু হয়তো আপনার মত না হতে পারে, আমার মত এখানে অনেকেই আছে যারা সম্পূর্ণভাবে পুরো জিনিসটাকে গ্রহণ না করতে পারে। কিন্তু সার্বিকভাবে রায় জনগণ দিয়েছে এবং যে রায় জনগণ দিয়েছে সেটাকে মানতে পারেন। কারণ যদি সত্যিকার অর্থে আপনি বিশ্বাস করেন জনগণ সবচাইতে উপরে, সংবিধানের ওপরে; তাহলে জনগণকে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার আপনার সুযোগ নেই।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সংসদে সবার আগে আমরা আশা করেছিলাম জুলাই সনদের বাস্তবায়ন। আমরা দেখছি বেশ কয়েকটি সেশন পরিচালনা হওয়ার পর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না, আমরা সংসদের কাছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে একটা রোডম্যাপ চাই—কীভাবে গণরায় বাস্তবায়ন করবে।

বক্তারা আরও বলেন, নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করেছি যে—ঈদের আগে সংসদের যে কয়েকটি সেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার কোনোটাতেই গণভোটের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের মাধ্যমে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ সম্পর্কে যে গণরায় দেশের জনগণ দিয়েছে, সেটি সম্পর্কে কোনো আলোচনা ও সিদ্ধান্ত এই সংসদে এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে—গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের সময়সীমাও লঙ্ঘিত হয়েছে।

তারা বলেন, আমরা মনে করি হাজারো শহীদদের আত্মত্যাগে ২০২৪ সনে জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে বিজয় ও নতুন বাংলাদেশ গঠনের যে আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেটি ধারণ করা ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা নতুন সংসদের সর্বপ্রথম দায়িত্ব।

এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে হাজারো শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা হবে।
মানববন্ধনে অংশ নেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, জুলাইযোদ্ধা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যবৃন্দসহ জুলাই ও সংস্কার নিয়ে কাজ করা বেশ কিছু নাগরিক প্ল্যাটফমের প্রতিনিধিরা।

সর্বশেষ