১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাতিল হচ্ছে গণভোট অধ্যাদেশ নতুন করে আইন করছে না সরকার

৩০ মার্চ ২০২৬

সদ্য সমাপ্ত গণভোট যে অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটির কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় তা বিল আকারে সংসদে পাস করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

অধ্যাদেশ বাতিলের কারণ গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। যে উদ্দেশ্যে এটি করা হয়েছিল, সেই গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। এই অধ্যাদেশের অধীনে ভবিষ্যতে আর কোনো গণভোট অনুষ্ঠিত হবে না। তাই এটিকে নতুন করে অনুমোদন দিয়ে বিল আকারে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই।”

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন বসার ৩০ দিনের মধ্যে এগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করতে হয়। যেহেতু এই অধ্যাদেশের কাজ শেষ এবং এটি সংবিধানের স্থায়ী কোনো অংশ ছিল না, তাই এটি বিল আকারে আর আসছে না।

বিশেষ কমিটির বৈঠক ও নোট অব ডিসেন্ট সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির তৃতীয় দিনের সভায় মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অনেকগুলো অধ্যাদেশ যেভাবে আছে সেভাবেই পাস হবে এবং কিছু সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে আনা হবে। তবে সরকারি দলের এই সিদ্ধান্তে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

গণভোট অধ্যাদেশ ছাড়াও মানবাধিকার কমিশন, বিচারপতি নিয়োগ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত অন্তত ১৫টি অধ্যাদেশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।

সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে যেসব বিল বা অধ্যাদেশ সংসদে আনা সম্ভব হবে না, সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (ল্যাপস) হয়ে যাবে। মন্ত্রী জানান, এতে কোনো আইনি জটিলতা নেই। যেগুলো বাকি থাকবে, সেগুলো পরবর্তী সেশনে আবার বিল আকারে নিয়ে আসা হবে। তবে সীমানা নির্ধারণ বা আরপিও’র মতো বিষয়গুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব থাকায় সেগুলোকে দ্রুত আইনে পরিণত করা হবে।

কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ