১লা এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৫৪ বছর পর আবার চাঁদে মানুষ পাঠাতে প্রস্তুতি, কাউন্টডাউন শুরু

১ এপ্রিল ২০২৬

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের দেশে পাড়ি দিচ্ছে মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এখন সাজ সাজ রব। বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট ‘এসএলএস’-এ চড়ে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করবেন চার নভোচারী। শুরু হয়ে গেছে ঐতিহাসিক এই অভিযানের চূড়ান্ত ক্ষণগণনা বা কাউন্টডাউন।

চার বীরের আকাশযাত্রা
আর্টেমিস-২ মিশনে অংশ নিচ্ছেন অভিজ্ঞ চার মহাকাশচারী—নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। বর্তমানে তারা বিশেষ কোয়ারেন্টাইনে থেকে চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন, যাতে যাত্রার আগে তাদের শরীরে কোনো সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে।

যাত্রাপথের পরিকল্পনা
শক্তিশালী রকেটের পিঠে চড়ে মহাকাশে পৌঁছানোর পর ‘ওরিয়ন’ নামক ক্যাপসুলটি আলাদা হয়ে যাবে। এরপর এটি পৃথিবীর চারপাশে একটি ডিম্বাকৃতির কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে।

এই সময়ে নভোচারীরা মহাকাশযানের যন্ত্রপাতি ও পৃথিবীর সাথে যোগাযোগব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করবেন। সব কিছু ঠিক থাকলে তারা শুরু করবেন চাঁদের সেই কাঙ্ক্ষিত যাত্রা।

বাধা হতে পারে আবহাওয়া
নাসার আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের জন্য আকাশ ও বাতাসের পরিস্থিতি অনুকূলে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ। তবে আকাশে ঘন মেঘ বা হঠাৎ বাতাসের বেগ বেড়ে গেলে উৎক্ষেপণের সময় পিছিয়ে যেতে পারে।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা এখন প্রতি মুহূর্তের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করছেন।

ঘরে বসেই দেখার সুযোগ
পুরো বিশ্ব এই রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাবে। ১ এপ্রিল সকাল থেকেই নাসার ইউটিউব চ্যানেলে জ্বালানি পূর্ণ করার দৃশ্য দেখানো হচ্ছে। এ ছাড়া দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট থেকে ‘নাসা প্লাস’ ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় মূল উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

লক্ষ্য যখন ২০৩০
অ্যাপোলো যুগের পর এটিই মানুষের প্রথম চন্দ্রাভিযান।

এই মিশনটি সফল হলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যেই চাঁদের মাটিতে মানুষের পুনরায় হাঁটার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে। আর্টেমিস-২ মূলত ভবিষ্যতের সেই স্থায়ী চন্দ্র-বসতি গড়ার প্রথম ও প্রধান ধাপ।

সূত্র : রয়টার্স, নাসা

সর্বশেষ