দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ অবশেষে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন। রোববার (১৪ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য নিশ্চিত করার পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরপরই দেশ ছেড়েছিলেন সাবেক এই প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ও গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের জন্য ইন্টারপোলে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়। গত ১২ জুন বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই থেকে মেইল পাওয়ার মাধ্যমে জানতে পারে যে তিনি আটক হয়েছেন। বর্তমানে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এনসিবি ঢাকা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
যে প্রক্রিয়ায় দেশে আনা হবে
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক এই আইজিপিকে ফিরিয়ে আনার একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান:
- প্রত্যর্পণের আবেদন (Extradition Request): আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে ফিরিয়ে আনার আবেদন পাঠাতে হবে।
- কূটনৈতিক চ্যানেল: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে এই প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করে এনসিবি আবুধাবির কাছে পাঠাবে।
- দাপ্তরিক প্রস্তুতি: দুদক ইতিমধ্যে মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দলিলাদি প্রস্তুত করে রেখেছে।
দুদকের দায়ের করা মামলা ও অভিযোগ
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুদকের ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে: ১. জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ: পাঁচটি মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রায় ৭৬ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২. পাসপোর্ট জালিয়াতি: সরকারি কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে সাধারণ নাগরিক হিসেবে একাধিক পাসপোর্ট গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ৩. বিচারাধীন মামলা: ইতিমধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে এবং অন্য একটির বিচার কাজ চলছে।
নিষেধাজ্ঞার ইতিহাস
বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ডিএমপি কমিশনার ও র্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বর্তমানে এনসিবি ঢাকা আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং গ্রেপ্তার পরবর্তী ফলোআপ কার্যক্রম সম্পন্ন করছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুততম সময়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।



