মহাকাশ স্টেশনের পর এবার সমুদ্রের তলদেশে শুরু হলো মানুষের বসবাসের নতুন অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে ‘ফ্লোরিডা কিজ ন্যাশনাল মেরিন স্যাঙ্কচুয়ারি’-র টেনেসি রিফে পানির প্রায় ১৭ মিটার গভীরে স্থাপন করা হয়েছে মানুষের তৈরি আধুনিক সাবসি হ্যাবিট্যাট ‘ভ্যানগার্ড’। সমুদ্র প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ‘ডিপ’ (DEEP) নির্মিত এই স্থায়ী প্ল্যাটফর্মে চারজন ক্রু বা বিজ্ঞানী টানা কয়েক সপ্তাহ থেকে মাসজুড়ে অবস্থান করতে পারবেন।
‘ভ্যানগার্ড’-এর মূল বৈশিষ্ট্য ও আধুনিক সুবিধাসমূহ:
- রিয়েল-টাইম গবেষণা: গভীর সমুদ্রের নমুনা উপরে আনলে চাপের পরিবর্তনের কারণে তার আণবিক ও কোষীয় গঠনে যে বিকৃতি ঘটে, তা রোধ করে পানির তলদেশের সমান চাপেই তাৎক্ষণিক পরীক্ষা চালানো সম্ভব হবে।
- মুন পুল সুবিধা: স্টেশনটিতে নিচের দিকে খোলা একটি প্রবেশপথ বা ‘মুন পুল’ রয়েছে। ভেতরের ও বাইরের চাপ সমান থাকায় এর দরজা খোলা থাকলেও পানি প্রবেশ করে না, যা থেকে গবেষকরা সরাসরি সমুদ্রে যাতায়াত করতে পারবেন।
- সীমহীন ডাইভিং: প্রচলিত স্কুবা ডাইভিংয়ের ৬০ মিনিটের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে ‘স্যাচুরেশন ডাইভার’ হিসেবে গবেষকরা আম্বিলিক্যাল পাইপের মাধ্যমে সরাসরি বাতাস নিয়ে পানির নিচে দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারবেন।
- ভূপৃষ্ঠের সংযোগ: পানির ওপর ভাসমান বিশেষ বয়ার মাধ্যমে হ্যাবিট্যাটটিতে বাতাস, বিদ্যুৎ, স্যাটেলাইট যোগাযোগ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
বর্তমানে এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সামুদ্রিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হলেও ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ২০২৭ সালের মধ্যে ‘সেন্টিনেল’ নামে আরও একটি উন্নত বাসস্থান চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন মহীসোপানে স্থায়ী মানববসতির পথ উন্মোচন করবে।



