বাংলাদেশের শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুতের (রুফটপ সোলার) ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা দিনের বেলা বিদ্যুতের মূল চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিস’ (আইইইএফএ)-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
আইইইএফএ-এর প্রাক্কলন অনুযায়ী, সরকারি হিসাবে দেশে ছাদে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪১৮ মেগাওয়াট বলা হলেও, বাস্তবে দেশের বড় ২৩৯টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই ৬৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। অন্যান্য ক্ষুদ্রাকার স্থাপনা হিসাব করলে এই মোট সক্ষমতা ১,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রতিবেদনের মূল বিষয় ও পরিসংখ্যান:
- বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয়: জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বাড়ায় ব্যবসায়ীরা ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত হচ্ছেন।
- ডিজেল আমদানিতে সাশ্রয়: কৃষিকাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের এক-তৃতীয়াংশ সৌরবিদ্যুতে রূপান্তর করা গেলে বছরে প্রায় ২৪৪ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা) সাশ্রয় সম্ভব।
- শুল্ক ও কর বাধা: সাম্প্রতিক কর পরিবর্তনের ফলে রুফটপ সোলার প্রকল্পের ক্ষেত্রে করের হার ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ (১৫% ভ্যাট ও ২% অগ্রিম কর) হওয়ায় প্রকল্পের সার্বিক খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
- নেট মিটারিং জটিলতা: নিয়ম অনুযায়ী ১০-১৫ দিনের মধ্যে ‘নেট মিটারিং’ গ্রিড সংযোগ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক বেশি সময় লাগছে।
আইইইএফএ-এর মতে, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বা দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের উৎসের কাছেই ছোট সৌর প্যানেল বা সোলার সেচ পাম্প বসানো বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সাশ্রয়ী। সংস্থাটি সৌর যন্ত্রাংশের আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার, অনলাইন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত গ্রিড সংযোগ এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ও স্মার্ট মিটারের ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।



