১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

দিনমজুর বাবার ত্যাগের ফল: চাঁপাইনবাগঞ্জের দুই মেয়ে এখন বিসিএস ক্যাডার

৬ ডিসেম্বর ২০২৫

চাঁপাইনবাগঞ্জের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের আবদুল হান্নান পেশায় দিনমজুর। পাঁচ কাঠা জমি ও টিনের ছাপরার ছোট ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার হলেও, কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি ও তার স্ত্রী মেয়েদের শিক্ষার প্রতি অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। সেই ত্যাগের ফল—তাদের দুই মেয়ে, মোসা: সারমিন আক্তার ও মোসা: খাদিজা আক্তার, বিসিএস ক্যাডার হিসেবে দেশসেবা করতে যাচ্ছেন।

ছোট বোন খাদিজা ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দিয়েছেন, আর বড় বোন সারমিন ৪৪তম বিসিএসে পশুসম্পদ ক্যাডার পেয়েছেন। দুই বোনের মতে, তাদের সাফল্যের পেছনে মা–বাবার ত্যাগই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।

সারমিনের পড়াশোনার শুরু হয়েছিল বালিয়াডাঙ্গা উচ্চবিদ্যালয় থেকে, যেখানে তিনি এবং ছোট বোন খাদিজা উভয়েই জিপিএ–৫ পেয়ে এসএসসি সম্পন্ন করেছেন। এরপর তারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হন। ব্র্যাক ব্যাংক-প্রথম আলো ট্রাস্ট এবং হামদর্দ লিমিটেডের শিক্ষাবৃত্তি দুজনের পড়াশোনায় সহায়তা করেছে।

সারমিন আক্তার বলেন, “আমাদের পরিবারের কষ্টের পথ অনেক লম্বা ছিল। প্রথম আলো ট্রাস্টের সহায়তা ও মা–বাবার ত্যাগ না থাকলে আজকের অবস্থানে আসা সম্ভব হতো না।” ছোট বোন খাদিজা যোগ করেন, “এমন মা–বাবার জন্য আমরা গর্ব করি। বড় বোনের ছত্রছায়ায় লেখাপড়া এগিয়ে নিতে পেরেছি।”

স্থানীয় মানুষ দুই বোনের অর্জনকে এলাকার মেয়েদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। তাদের গল্প প্রমাণ করে যে দৃঢ় সংকল্প, সুযোগ এবং সহায়তা থাকলে দারিদ্র্যও শেষ পর্যন্ত হার মানে।

সর্বশেষ