ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ দ্বিতীয় মাসে পদার্পণ করায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশ তেলের কৌশলগত মজুত ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছে। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, ইরানের তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়া সত্ত্বেও চীনের জ্বালানি পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত বেশ স্থিতিশীল।
চীনের তুরুপের তাস: ‘টিয়াপট’ রিফাইনারি
চীনের এই স্থিতিশীলতার নেপথ্যে রয়েছে দেশটির ছোট ও বেসরকারি তেল শোধনাগারগুলো, যা স্থানীয়ভাবে ‘টিয়াপট’ নামে পরিচিত। মূলত শানডং প্রদেশে অবস্থিত এই শোধনাগারগুলো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে সস্তায় ইরান ও রাশিয়ার তেল আমদানি ও মজুত করে চীনের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে।
বড় কোম্পানি নয়, ভরসা যখন ছোট শোধনাগার
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে চীন তার বড় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর (যেমন সাইনোপেক) পরিবর্তে এই ছোট রিফাইনারিগুলোকে ব্যবহার করছে। তথ্য অনুযায়ী:
- ইউয়ানে লেনদেন: এই তেল কিনতে চীন আন্তর্জাতিক ডলার ব্যবস্থার পরিবর্তে নিজেদের আন্তঃব্যাঙ্ক পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করছে।
- বিপুল আমদানি: ২০২৫ সালে ইরানের রপ্তানি করা তেলের ৮০ শতাংশেরও বেশি (দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল) কিনেছে চীন।
- বিশাল সক্ষমতা: চীনের মোট তেল প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় এক-চতুর্থাংশ নিয়ন্ত্রিত হয় এই টিয়াপট রিফাইনারিগুলোর মাধ্যমে।
১২০ কোটি ব্যারেলের বিশাল মজুত
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস সিলেক্ট কমিটির তথ্যমতে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চীন রাশিয়া, ইরান ও ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনে প্রায় ১২০ কোটি ব্যারেলের একটি বিশাল মজুত গড়ে তুলেছে। যুদ্ধের আগেই এই বিপুল পরিমাণ তেল কিনে রাখায় বর্তমানে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে তার প্রভাব পড়েনি।
দীর্ঘমেয়াদী শঙ্কা
সাময়িকভাবে চীন পরিস্থিতি সামাল দিলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে টিয়াপট রিফাইনারিগুলো দীর্ঘমেয়াদী তেলের ঘাটতি মোকাবিলা করতে সক্ষম নাও হতে পারে। শানডংয়ের এক রিফাইনারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আগের মজুত থাকায় এখন চাপ কম, তবে সামনের পরিস্থিতি নির্ভর করবে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির ওপর।”



