ইরানে জাতীয় সামরিক স্থাপনায় সশস্ত্র হামলা এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে চিহ্নিত দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে তেহরান প্রশাসন। আজ রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে তাদের ফাঁসি দেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ।
দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয়
ফাঁসি কার্যকর হওয়া ওই দুই ব্যক্তি হলেন:
- মোহাম্মদ আমিন বিগলারি * শাহিন ওয়াহিদিপারস্ত
ইরানি গণমাধ্যম ও প্রশাসন শুরু থেকেই তাদের ‘শত্রু এজেন্ট’ এবং ‘গাদ্দার’ হিসেবে অভিহিত করে আসছিল।
অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ
আদালতের নথিপত্র ও সরকারি তথ্যানুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো হলো:
- সামরিক ঘাঁটিতে হামলা: গত জানুয়ারি মাসে ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে তারা রাজধানী তেহরানের একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটিতে সশস্ত্র হামলা চালায়।
- অস্ত্রাগার দখল ও ষড়যন্ত্র: তারা ওই ঘাঁটির জাতীয় অস্ত্রাগার জোরপূর্বক দখল করে দেশের অভ্যন্তরে আরও বড় ধরনের অরাজকতা ও নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।
- বিদেশি শক্তির দালালি: তাদের বিরুদ্ধে বিদেশি অপশক্তির হয়ে কাজ করা এবং দেশের চরম ক্ষতি করার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে ইরানে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই উত্তাল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে এই দুই ব্যক্তি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করার পর আজ এই দণ্ড কার্যকর করা হয়।



