ইরানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভে নিহতের ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। রোববার (১১ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভে নিহতদের ‘শহীদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সম্মানে এই শোক পালন করা হবে।
একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের প্রতি সমর্থন জানাতে এবং ‘দাঙ্গাকারীদের’ বিরুদ্ধে অবস্থান প্রদর্শনে সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশব্যাপী বিশাল ‘সংহতি মিছিল’-এর ডাক দিয়েছে তেহরান। বিক্ষোভের ১২তম দিনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ ধৈর্য’ প্রদর্শনের আহ্বান জানানোর পর এই শোকের ঘোষণা এল। পেজেশকিয়ান সহিংসতা পরিহার করে জনগণের যৌক্তিক দাবি শোনার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতির অবনতি এবং বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানির ঘটনা বাড়তে থাকায় সরকার শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সোমবারের পরিকল্পিত মিছিলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ‘বিদেশি উসকানির’ বিরুদ্ধে তাদের দৃঢ় অবস্থান জানান দেবে। শুরু থেকেই এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করে আসছে তেহরান। টানা ১২ দিন ধরে চলা এই আন্দোলন বর্তমানে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন রাজনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে একদিকে সরকার আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে শৃঙ্খলা বজায় রাখার নামে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিতও দিচ্ছে।



