১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যেভাবে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রে পরিণত হয়েছে হরমুজ প্রণালি

১১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক নতুন মোড় নিয়েছে। তবে রণক্ষেত্রের ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা ড্রোন নয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই সংকীর্ণ জলপথটিই এখন বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রণকৌশলে পরিবর্তন: সম্মুখ যুদ্ধ থেকে অর্থনৈতিক চাপে ইরান

সংঘাতের শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল এটি ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াই। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে ইরান তাদের সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন আনে। সরাসরি সংঘাতের চেয়ে তারা এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়, ফলে এখানে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।

কোণঠাসা যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রশক্তি

ইরানের এই কৌশলী পদক্ষেপের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। এতে করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং মিত্রদের অনীহার কারণে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে এবং যুদ্ধবিরতির আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে।

ইরানের পরবর্তী পরিকল্পনা ও শুল্ক আরোপের প্রস্তাব

এই পরিস্থিতিকে বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে দেখছে তেহরান। তারা এখন হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। এমনকি এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর বিশেষ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবও বিবেচনা করছে ইরান। তবে এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল আইন অনুযায়ী নতুন উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংকটের মাঝেও কৌশলগত বিজয়

দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি চাপে থাকলেও, ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে তারা বিশ্বশক্তির বিরুদ্ধে কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। আধুনিক রাজনীতিতে শুধু সামরিক সরঞ্জাম নয়, বরং ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব যে কতটা শক্তিশালী হতে পারে, ইরান তার প্রমাণ দিচ্ছে এই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে।

সর্বশেষ