ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ২২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে ইরানের ওপর থেকে তেল আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তেল কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতসহ এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় আমদানিকারক দেশগুলো।
ভারতের রিফাইনারিগুলোর প্রস্তুতি রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের অন্তত তিনটি বড় তেল শোধনাগার (রিফাইনারি) ইতিমধ্যেই ইরানি তেল কেনার প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। তবে তারা ভারত সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে পেমেন্ট বা অর্থ পরিশোধের পদ্ধতির বিষয়ে স্বচ্ছ বার্তার অপেক্ষায় রয়েছে। ভারতের তেলের মজুত তুলনামূলক কম হওয়ায় দেশটি এই সুযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
মার্কিন প্রশাসনের ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সমুদ্রপথে থাকা ইরানি তেল কেনার ওপর ৩০ দিনের জন্য বিশেষ ছাড় দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন অর্থ বিভাগের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় (ওএফএসি) স্পষ্ট করেছে যে, ২০ মার্চের আগে জাহাজে তোলা হয়েছে এমন তেল আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে খালাস করলে এই সুবিধার আওতায় পড়বে। যুদ্ধ শুরুর পর এ নিয়ে তৃতীয়বার এমন ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র।
সমুদ্রে ভাসছে ১৭ কোটি ব্যারেল তেল জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে জাহাজে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন বা ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ তেলের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার এই সময়ে ইরানি তেল তাদের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
চীন ও অন্যান্য দেশের অবস্থান ২০১৮ সালে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে চীন ইরানের প্রধান গ্রাহক হিসেবে বড় ছাড়ে তেল কিনছে। গত বছর চীন প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩.৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। তবে এবারের ছাড়ের ফলে ভারত ছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও তুরস্কের মতো দেশগুলো পুনরায় ইরানি তেলের বাজারে ফেরার পথ খুঁজছে।
প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তেল কেনার সুযোগ তৈরি হলেও ব্যাংকিং চ্যানেল এবং অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে এখনো কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। এছাড়া তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ও অনিবন্ধিত জাহাজে থাকায় লজিস্টিক সাপোর্টের ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জ দেখছেন ব্যবসায়ীরা। সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যবসায়ীদের মতে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগলেও সব দেশই দ্রুত এই সুযোগ নিতে চাইছে।



