১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ফের যুদ্ধের খবরে বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা গেছে। আজ বুধবার (১০ জুন) লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম এক ধাক্কায় ১ শতাংশেরও বেশি লাফিয়ে ওঠে। তবে পরবর্তীতে বিশ্ববাজার সেই ধাক্কা কিছুটা সামলে নিয়ে মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে আজ জুলাই মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন ক্রুড অয়েল ফিউচার মূল্য ০.১৯ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ৮৮.০৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা দিনের শুরুতে ১ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছিল। অন্যদিকে, বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের আগস্টের ফিউচার মূল্য ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯১.২৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।

যে কারণে এই উত্তেজনা:

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত ইরানের সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে সফল বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। গত সোমবার এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘অ্যাপাচি’ সামরিক হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জবাবে মঙ্গলবার রাতে এই প্রতিরক্ষামূলক এবং আনুপাতিক আক্রমণ চালানো হয়।

এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’র এক পোস্টে জানান, হরমুজ প্রণালির কাছে টহলরত অবস্থায় আমেরিকার একটি হেলিকপ্টারকে গুলি করে নামিয়েছে ইরান। ট্রাম্প লেখেন, হামলার শিকার হেলিকপ্টারের দুই পাইলটই সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং অক্ষত আছেন। এই হামলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি ও আবশ্যক ছিল। তার এই নির্দেশনার পরপরই পেন্টাগন ইরানে হামলা চালায়।

ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক তেল সংকটের আশঙ্কা:

ভূরাজনৈতিক এই উত্তেজনার মাঝে জ্বালানি খাতের শীর্ষস্থানীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি এক ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে:

  • পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান ৬টি তেল উৎপাদনকারী দেশের দৈনিক ১১.৮ মিলিয়ন (১ কোটি ১৮ লাখ) ব্যারেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক তেল সরবরাহ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
  • রিস্টাড এনার্জির প্রাক্কলন অনুযায়ী, এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে এ পর্যন্ত জমে থাকা মোট তেল উৎপাদনের ঘাটতি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ব্যারেলে পৌঁছেছে।

ভবিষ্যদ্বাণী: সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত যদি আরও এক মাস দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বাজার থেকে আরও ৩৫০ মিলিয়ন (৩৫ কোটি) ব্যারেল তেলের উৎপাদন চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। আর এমনটি হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে তেলের দামের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।

সর্বশেষ