কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসার মধ্যেই শঙ্কা প্রকাশ করেছে তার পরিবার। তনুর পরিবারের দাবি, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করা চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহা দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
পরিবারের অভিযোগ ও দাবি: রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অভিযোগ করেন যে, অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহা বর্তমানে খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এনওসি (অনাপত্তি সনদ) নিয়ে বিদেশে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “শুরুতে ফরেনসিক রিপোর্ট পাল্টে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এখন শুনছি ওই ডাক্তার যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের চেষ্টা করছেন। তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।”
তনুর মা আনোয়ারা বেগমও প্রশ্ন তুলেছেন, নির্দোষ হলে কেন তিনি পালানোর চেষ্টা করবেন? তারা অবিলম্বে কামদা প্রসাদ সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তের বর্তমান অবস্থা: মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকা থেকে সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাকে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান:
- হাফিজুর রহমানের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
- ২০১৭ সালে তনুর পোশাকে পাওয়া তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে এই নমুনা মিলিয়ে দেখা হবে।
- এটিই প্রথম এই মামলায় কারও ডিএনএ ম্যাচিংয়ের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। সে সময় ময়নাতদন্ত দলের প্রধান ছিলেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক কামদা প্রসাদ সাহা। বর্তমানে তার ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।



