১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

টানা পতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল স্বর্ণের দাম

বিশ্ববাজারে বড় ধরনের দরপতনের পর অবশেষে কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে স্বর্ণের দাম। বিশ্বজুড়ে বন্ড মার্কেটে ধস ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে আবারও স্বর্ণ কেনা বাড়িয়ে দেওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে আজ সোমবার (১৮ মে) স্পট গোল্ড প্রতি আউন্স ৪,৫৩৯.৪৮ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে, যা আজকের সেশনের শুরুতে গত দেড় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গিয়েছিল। খবর রয়টার্সের।

অন্যদিকে, জুনে ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সুদের হার বৃদ্ধি ও স্বর্ণের বাজারে চাপ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড (মুনাফা) গত বছরের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর অর্থ হলো দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বাড়তে যাচ্ছে। যেহেতু স্বর্ণের বিনিয়োগকারীদের সরাসরি কোনো সুদ দিতে হয় না, তাই সুদের হার বাড়লে সাধারণত স্বর্ণের দামের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। ফেডওয়াচ টুলের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন ৫০ শতাংশ।

পূর্বাভাস কমাল জেপি মরগান

স্বর্ণের এই দরপতন ও স্বল্পমেয়াদি চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে বিশ্বখ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান ২০২৬ সালের জন্য স্বর্ণের গড় মূল্যের পূর্বাভাস প্রতি আউন্স ৫,৭০৮ ডলার থেকে কমিয়ে ৫,২৪৩ ডলারে নামিয়েছে। ব্যাংকটির মতে, স্বর্ণ এখন একটি অনিশ্চিত বৃত্তে আটকে আছে, যা আপাতত প্রতি আউন্স ৪,৩৪০ ডলার থেকে ৪,৭৩০ ডলারের মুভিং অ্যাভারেজের (Moving Average) মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের সর্বশেষ দর

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও কিছুটা প্রভাব পড়েছে:

  • স্পট রুপা: ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৫.৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
  • প্ল্যাটিনাম: ০.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৯৭০.৭৪ ডলারে নেমেছে।
  • প্যালাডিয়াম: ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৩৯৬.৭৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

জ্বালানি বাজারেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার হাওয়া

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলায় আগুন লাগার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।

সর্বশেষ