১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনা: দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক তেলের দাম!

ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের ক্রুড অয়েলের দামই দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আজ সোমবার (১৮ মে) বৈশ্বিক তেলবাজারে এই বড় ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা থমকে যাওয়া এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার কারণেই মূলত বাজারে এই অস্থিরতা।

রেকর্ড ছাড়াল ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই ক্রুড

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের সর্বশেষ চিত্র:

  • ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার: ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ০৩ ডলার বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে ১১১ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছেছে। লেনদেনের একপর্যায়ে এটি ১১২ ডলারেও উঠে যায়, যা গত ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ।
  • ডব্লিউটিআই ক্রুড (যুক্তরাষ্ট্র): ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩১ ডলার বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৭৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। একপর্যায়ে এটি ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়, যা ৩০ এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেও উভয় বেঞ্চমার্ক তেলের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়েছিল। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও আটক কার্যক্রম বন্ধে শান্তি চুক্তির আশা ক্ষীণ হয়ে পড়া এবং সংকট নিরসনে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আলোচনায় কোনো স্পষ্ট অগ্রগতি না হওয়ায় এই দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা ও নতুন শঙ্কা

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমিরাতি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলার উৎস তদন্ত করা হচ্ছে এবং এ ধরনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা দিয়ে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।

আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, “এই ড্রোন হামলাগুলো মূলত একটি সতর্কবার্তা। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন করে ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।”

দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক ঝুঁকির পূর্বাভাস

প্রেস্টিজ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক জেসন শেনকার সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, তেলের দামে চাপ তত বাড়বে। এর ফলে বৈশ্বিক সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে।

ট্রাম্পের জরুরি বৈঠক ও রুশ তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা

অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে পারেন।

এর পাশাপাশি, রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে কিছু দেশকে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের নতুন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা তেলের দাম বৃদ্ধিতে অতিরিক্ত জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে।

সর্বশেষ