১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে তার মেয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যে তোলপাড়

ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুর চার বছর পেরিয়ে গেলেও কাটেনি রহস্যের মেঘ। এবার তার মৃত্যু নিয়ে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন মেজ মেয়ে জিয়ানিন্না ম্যারাডোনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে একটি সুপরিকল্পিত ‘ছক’ ছিল, যা একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

অভিযোগের তির আইনজীবী মোরলার দিকে

৩৬ বছর বয়সী জিয়ানিন্নার অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ম্যারাডোনার সাবেক আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা। তার দাবি, মোরলা ম্যারাডোনার জীবন এবং তার ‘ব্র্যান্ড’ মূল্যের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে চেয়েছিলেন। এমনকি বাবার সই জাল করার ক্ষমতাও মোরলার হাতে ছিল বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তিনি। জিয়ানিন্না মনে করেন, ম্যারাডোনাকে কোনো বিশেষায়িত ক্লিনিকে ভর্তি না করে বাড়িতে রাখার পেছনেও ছিল গভীর উদ্দেশ্য—যাতে মোরলার একক নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

চিকিৎসায় অবহেলা নাকি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র?

২০২০ সালের নভেম্বরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বিশ্ব ফুটবলের এই কিংবদন্তি। বর্তমানে তার মৃত্যুর জন্য দায়ী সাতজন চিকিৎসাকর্মীর বিচার চলছে। বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ম্যারাডোনাকে যথাযথ সরঞ্জাম ছাড়াই একটি ভাড়া বাড়িতে রাখা হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তিনি দীর্ঘ সময় বিছানায় একা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। জিয়ানিন্নার মতে, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর চিকিৎসকরা রোগীকে বাঁচানোর চেয়ে নিজেদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন।

বাণিজ্যিক স্বার্থ বনাম স্বাস্থ্য

ম্যারাডোনার পরিবারের দাবি, তার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকজন কিংবদন্তি এই তারকার স্বাস্থ্যের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও অর্থের দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল। বর্তমানে নিউরোসার্জন, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং নার্সসহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

চলছে আইনি লড়াই

অন্যদিকে, জালিয়াতির অভিযোগে আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা ও তার সহকারীর বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকরা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ম্যারাডোনা স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছেন। সান ইসিদোরোর আদালতে চলমান এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে ফুটবল বিশ্ব।

সর্বশেষ