১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলায় সাবেক এমপি ফজলে করিম রিমান্ডে

২৪ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের চকবাজার থানায় দায়ের করা ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম নুরু হত্যার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম খলিল এই রিমান্ডের আদেশ দেন। এ দিন কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করেন ফজলে করিম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) গত ২৩ নভেম্বর তার জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রিয়াদ উদ্দীন জানান, আদালত শুনানি শেষে ৫ দিনের বদলে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের ২৯ মার্চ রাতে রাউজানের নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুল আলমকে নগরের চন্দনপুরার বাসা থেকে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিমের নির্দেশে আটক করা হয়। এরপর তাকে নোয়াপাড়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে নিয়ে গিয়ে চোখ ও মুখ বেঁধে রাতভর নির্যাতন করা হয় এবং পরে মাথায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তার লাশ পরের দিন বাগোয়ান ইউনিয়নের খেলারঘাটে কর্ণফুলী নদীর তীরের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহতের স্ত্রী সুমি আক্তার ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফজলে করিমকে প্রধান আসামি করে মোট ১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, সঙ্গে ৩০-৪০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিরা হলেন: রাউজান নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই জাবেদ, বাবুল মেম্বার, নাসের প্রকাশ (টাইগার নাসের), লিটন, তৈয়ব, ফরিদ, মামুন, আবু জাফর রাশেদ, ইয়ার মোহাম্মদ, সেকান্দর, জসিম, খালেদ, বাবুল রব্বানি, হাসান মোহাম্মদ নাসির ও মোর্শেদ।

গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত এলাকা থেকে ফজলে করিমকে আটক করা হয়। ওই সময় বিজিবি জানায়, তিনি ‘অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার চেষ্টা’ করছিলেন। এরপর তাকে আখাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে নেওয়া হয়। পরে ১৯ সেপ্টেম্বর হেলিকপ্টার যোগে চট্টগ্রামে আনা হয়।

ফজলে করিমের বিরুদ্ধে হত্যাসহ অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্রের মুখে জমি লিখিয়ে নেওয়া, ভাঙচুর ও দখলসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন থানায় এক ডজনের বেশি মামলা রয়েছে।

সর্বশেষ