হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও স্বর্ণের দাম একলাফে অনেকটা বেড়ে গেছে। দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অবস্থান ও বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
আকাশচুম্বী তেলের দাম:
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক দিনেই প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সামান্য কমে এটি ১১৩.৫৪ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১৪.৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেলের ঘাটতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রণক্ষেত্র হরমুজ প্রণালি:
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ইরানের ছয়টি ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার দাবি জানালেও ইরান একে ‘ভিত্তিহীন প্রচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি অভিযান শুরু করেছেন, যার আওতায় মার্কিন নৌবাহিনী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে প্রণালি পার করে দেবে।
নাবিক ও জাহাজ আটকা:
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ২ হাজার বাণিজ্যিক জাহাজে ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক এই প্রণালিতে আটকা পড়ে আছেন। নিরাপত্তা শঙ্কায় শিপিং কোম্পানিগুলো এই পথে চলাচলে দ্বিধাবোধ করছে।
নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের জয়জয়কার:
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার ছেড়ে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে বিশ্ববাজারের সাথে তাল মিলিয়ে দেশেও দফায় দফায় স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থবির হতে পারে বিশ্ব অর্থনীতি:
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে কেবল তেল নয়, বরং গ্যাস ও সারের সরবরাহও ব্যাহত হবে, যা বিশ্ব অর্থনীতিকে পুরোপুরি স্থবির করে দিতে পারে।



