আগামী ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডাতে পর্দা উঠছে ফুটবল বিশ্বকাপের। এবারই প্রথমবার রেকর্ড ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই মহাযজ্ঞ। আর এই বর্ধিত আসরেই ফুটবল বিশ্ব দেখতে যাচ্ছে বড় চমক; প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে সম্পূর্ণ নতুন ৪টি দেশ।
ফুটবল বিশ্বের চেনা পরাশক্তিগুলোর বাইরে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন রূপকথা লিখে বিশ্বমঞ্চে পা রাখা এই চার দেশ হলো— কুরাসাও, উজবেকিস্তান, জর্ডান এবং কেপ ভার্দে।
ঢাকা শহরের সমান ‘কুরাসাও’ এখন বিশ্বমঞ্চে
প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। মাত্র দেড় লাখ জনসংখ্যার এই দেশটির আয়তন ১৭১ বর্গমাইল, যা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা শহরের চেয়ে সামান্য বড়। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইতিহাসের অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে তারা।
জামাইকার বিপক্ষে ড্র করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে কুরাসাও। একসময় ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ১৫০-এর নিচে থাকা দলটি এখন উঠে এসেছে ৮০-এর ঘরে। ছোট্ট দেশটির এই অবিশ্বাস্য উত্থান ফুটবল বিশ্বে এক নতুন অনুপ্রেরণার গল্প।
আক্ষেপ ঘুচিয়ে ইতিহাসে উজবেকিস্তান
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়া দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে এশিয়ার পরাশক্তি উজবেকিস্তান। এর আগে ২০০৬ জার্মানি ও ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে একদম কাছাকাছি গিয়েও মূল আসরের টিকিট হাতছাড়া হয়েছিল তাদের। তবে এবার আর হতাশ হতে হয়নি উজবেকদের। বর্তমান দলে থাকা কয়েকজন প্রতিভাবান ফুটবলারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ভর করেই এবার ইতিহাস গড়েছে তারা।
৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান জর্ডানের
এশিয়ার আরেক প্রতিনিধি হিসেবে ইতিহাস গড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডান। প্রায় ৪০ বছর আগে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নিয়েছিল দেশটি। এরপর টানা নয়বার ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে ধরা দিয়েছে কাঙ্ক্ষিত সেই সাফল্য। এএফসি (AFC) বাছাইয়ের গ্রুপ ‘বি’ থেকে রানার্সআপ হয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে জর্ডান।
লিংকডইনের খোঁজে ও ইউরোপীয় ছোঁয়ায় কেপ ভার্দে
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেও জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বকাপের মূল আসরে। প্রায় ছয় লাখ জনসংখ্যার এই দেশটির অর্জন কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। ১৯৯০ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে নিজেদের ফুটবল কাঠামো শক্তিশালী করেছে তারা।
কেপ ভার্দের এই উন্নতির পেছনে অন্যতম মূল কৌশল ছিল ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দে বংশোদ্ভূত ফুটবলারদের জাতীয় দলে যুক্ত করা। বর্তমান স্কোয়াডেও রয়েছে নানা দেশের সংযোগ; দলে আছেন নেদারল্যান্ডসে জন্ম নেওয়া ছয়জন ফুটবলার এবং আয়ারল্যান্ডে জন্ম নেওয়া একজন ডিফেন্ডার। মজার বিষয় হলো, কেপ ভার্দে ফুটবল কর্তৃপক্ষ তাদের এক ফুটবলার রবার্তকে খুঁজে পেয়েছিল পেশাদার যোগাযোগ মাধ্যম ‘লিংকডইন’ (LinkedIn)-এর মাধ্যমে!
ফুটবলে নতুন সম্ভাবনার বার্তা
বিশ্বকাপের এবারের আসরে এই চার নতুন দলের অংশগ্রহণ ফুটবলে বৈচিত্র্য ও নতুন সম্ভাবনার বার্তাই দিচ্ছে। ছোট দেশ কিংবা দীর্ঘদিনের ব্যর্থতা— সব বাধা পেরিয়েও যে বিশ্বমঞ্চে রাজত্ব করা যায়, সেটিই প্রমাণ করে দেখাল কুরাসাও, উজবেকিস্তান, জর্ডান ও কেপ ভার্দে।



