সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন ‘নবম জাতীয় পে-স্কেল’ কার্যকর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। তবে এবারের প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে যাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারী ও কম পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্তরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকুরিজীবীদের আয়ের বৈষম্য কমিয়ে নিম্ন আয়ের কর্মীদের আর্থিক সুরক্ষা বাড়ানোর দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
কারা পাচ্ছেন বেশি সুবিধা?
- নিম্ন গ্রেডের কর্মচারী: নতুন পে-স্কেলে নিম্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিপরীতে উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন বৃদ্ধির হার হবে তুলনামূলক কম। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন গ্রেডের বৈষম্য কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- কম পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্তরা: অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যারা কম পেনশন পান, তারা বড় সুবিধা পেতে পারেন। বিশেষ করে যাদের মাসিক পেনশন ২০ হাজার টাকার নিচে, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।
অগ্রাধিকার পাওয়ার কারণ: নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে নিম্ন আয়ের কর্মচারীরা সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তাই নতুন পে-স্কেলে তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
মহার্ঘ ভাতা নিয়ে পরিকল্পনা: বর্তমানে কার্যকর থাকা ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুলিশ, মাঠ প্রশাসন ও বিচার বিভাগসহ দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এই নতুন পে-স্কেলের আওতায় আসবেন। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ক্ষেত্রেও পরবর্তীতে সমন্বিত নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।



